চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর নকআউট পর্যায়ে আলভারো আরবেলোয়ার অধিনস্থ রিয়াল মাদ্রিদ দুই যুগপৎ কিংবদন্তি কোচকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে। প্রথমে জোসে মরিনিওর বেনফিকাকে এবং এরপর পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় দিয়েছেন আরবেলোয়া। দুই–আড়াই মাস আগেও নিজেই এমন কৃতিত্বের কল্পনা করেননি তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরবেলোয়া বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি যে এই দুই হেভিওয়েট কোচকে হারানো সম্ভব হবে। সবকিছুই সম্ভব হয়েছে আমার খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমের কারণে। মাঠে খেলোয়াড়রাই খেলে; কোচকেও অবশ্য পেছনে দিকনির্দেশ দিতে হয়। তবে গার্দিওলার মতো কোচকে হারানোর সাহস আমি নিজে কখনও বলতে পারি না।”
এই দুই লেগে অর্জিত ফল আরবেলোয়ার ক্যারিয়ারের ইতিহাসেও অনন্য। ইউরোপিয়ান কাপের নকআউট পর্যায়ে প্রথম দুটি ম্যাচেই ইতিহাসের সেরা কোচ দুইজনকে হারানো এই প্রথম ঘটনা।
ফুটবলের পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞ ‘মিস্টার চিপ’ উল্লেখ করেছেন, ইউরোপিয়ান কাপ ইতিহাসে আরবেলোয়া প্রথম কোচ যিনি একই নকআউট পর্যায়ে মরিনিও ও গার্দিওলাকে দুই লেগেই পরাজিত করেছেন।
শেষ ষোলোর নকআউট ফলাফল
| প্রতিপক্ষ | প্রথম লেগ (Away) | দ্বিতীয় লেগ (Home) | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| বেনফিকা (মরিনিও) | ০–১ (হার) | ২–১ (জয়) | রিয়াল এগিয়ে যায় |
| ম্যানচেস্টার সিটি (গার্দিওলা) | ৩–০ (জয়) | ২–১ (জয়) | রিয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে |
মরিনিওর বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নস লিগে আরবেলোয়া তার প্রথম নকআউট ম্যাচ খেলেছিলেন। বেনফিকার মাঠে প্রথম লেগ হারের পর বার্নাব্যুতে রিয়াল ২–১ গোলে জয়লাভ করে।
এরপর গার্দিওলার সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সময় রিয়াল প্রথম লেগে ৩–০ গোলে জয়ী হয়, সিটির মাঠে ফিরতি লেগেও ২–১ গোলে জয় নিশ্চিত করে। গার্দিওলাও পরাজয় স্বীকার করে আরবেলোয়ার প্রশংসা করেছেন। আরবেলোয়া জানান, “গার্দিওলা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, এবং আমি তাঁকে লিগ কাপ ফাইনালের জন্য শুভকামনা জানিয়েছি।”
উল্লেখযোগ্য যে, মরিনিও চ্যাম্পিয়নস লিগে চূড়ান্ত জয়ে সাতটি ক্লাবের সঙ্গে ইতিহাস তৈরি করেছেন, সর্বাধিক ম্যাচ জয় তালিকায় পাঁচে আছেন (১৫৪ ম্যাচে ৮০ জয়)। গার্দিওলা চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বাধিক ম্যাচ জয় তালিকায় তৃতীয় (১৮৯ ম্যাচে ১১৭ জয়) এবং গত দেড় দশকে ফুটবল খেলার ধরন পাল্টানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অন্যতম।
আরবেলোয়ার এই জয় শুধু রিয়ালের কৃতিত্ব নয়, বরং ইউরোপিয়ান ফুটবলের ইতিহাসের পাতাতেও এক বিশেষ অধ্যায় হিসেবে লেখা হলো।
