২০২৪ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতে দেশের ক্রিকেটের গৌরব বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ, এবার প্রতিপক্ষ ভারতের দল। আগামী ৫ এপ্রিল মালদ্বীপের মালে অবস্থিত জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত ৯টায় শুরু হবে ফাইনাল। এই ম্যাচ শুধু দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও উত্তেজনার মাত্রা তুঙ্গে পৌঁছেছে।
মালদ্বীপে বসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী ইতিমধ্যেই স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। তারা শুধু দলের খেলা দেখার জন্য নয়, মাঠে সরাসরি সমর্থন প্রদানের জন্যও উদগ্রীব। স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা সীমিত হলেও প্রবাসী ভক্তদের উপস্থিতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে টিকিটের চাহিদা অভাবনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে। খবর অনুযায়ী, আজ রাতেও মালেতে টিকিট প্রত্যাশীরা রাস্তায় অপেক্ষা করছেন।
গ্রুপ পর্যায়ে বাংলাদেশ এবং ভারত একই গ্রুপে খেলেছিল, এবং সেই লড়াই ১-১ গোলে ড্র হয়। উভয় দল ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল, তাই গ্রুপ ম্যাচে খুব তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়নি। তবে ফাইনালে উত্তেজনা সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নক আউট পর্বের নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ ড্র থাকলে খেলা সরাসরি টাইব্রেকার বা পেনাল্টি শুট-আউটে যাবে। গ্রুপ পর্বের ড্র হওয়ায় টাইব্রেকারের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্স বলেছেন, “একজন ইংরেজ হিসেবে পেনাল্টি শুট-আউট থেকে দূরে থাকাই ভালো। ১৯৯০ বিশ্বকাপ, ১৯৯৬ ইউরো এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপের উদাহরণ দেখায়, পেনাল্টি কখনও সহজ নয়। আমরা চাই ৯০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচটি শেষ হোক।”
ফাইনালের আগে ভারতকে সমীহ করে কোচ কক্স বলেন, “আমরা ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। তারা দারুণ খেলছে এবং তাদের কোচিং স্টাফও প্রশংসনীয়। তবে আমাদের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফও সমানভাবে প্রস্তুত। ভারত বড় দল, কিন্তু আমরা কম নই।”
বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথের ঐতিহ্যও তিনি তুলে ধরেছেন। তার মতে, “বাংলাদেশ-ভারত, বাংলাদেশ-পাকিস্তান বা বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা—এই ধরনের ম্যাচে সবসময় আলাদা উত্তেজনা থাকে। যেমন ইংল্যান্ডে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। কাছের প্রতিপক্ষকে হারানোর তাড়না সবসময়ই বেশি।”
অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, “ভারতের বিপক্ষে খেলা মানেই ভেতরে আলাদা উত্তেজনা কাজ করে। আমরা তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি। মাঠে নামলে সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। এবারও সেটাই করব এবং ভালো কিছু আশা করি।”
নিচে ফাইনাল ম্যাচ ও প্রবাসী সমর্থনের তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| টুর্নামেন্ট | সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ |
| ফাইনাল দল | বাংলাদেশ vs ভারত |
| তারিখ ও সময় | ৫ এপ্রিল ২০২৬, রাত ৯টা |
| স্থান | জাতীয় স্টেডিয়াম, মালদ্বীপ, মালেতে |
| বাংলাদেশি প্রবাসী সমর্থন | ব্যাপক, স্টেডিয়ামের আসনের চেয়ে বেশি চাহিদা |
| পূর্ববর্তী গ্রুপ ম্যাচ | বাংলাদেশ-ভারত: ১-১ গোলে ড্র |
| বাংলাদেশ কোচ | মার্ক কক্স (ব্রিটিশ) |
| অধিনায়ক | মিঠু চৌধুরী |
| প্রধান লক্ষ্য | শিরোপা জেতা, দেশের জন্য গৌরব বৃদ্ধি |
সবমিলিয়ে, ফাইনাল ম্যাচ কেবল খেলার উত্তেজনা নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলার মতো অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠেছে। মাঠে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, কোচিং স্ট্রাটেজি এবং ভক্তদের সমর্থন মিলিয়ে এটি হবে ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই।
