বার্সেলোনার প্রতীক্ষিত ‘লাস্ট ড্যান্স’ হয়ে উঠল না, এমন বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করলেন জাভি হার্নান্দেজ। লিওনেল মেসি কি সত্যিই ফিরতে চেয়েছিলেন বার্সেলোনায়? জাভির সোজাসাপ্টা উত্তর—“হ্যাঁ।” আর বার্সেলোনা কি তাঁকে ফেরাতে চেয়েছিল? জাভির পুনরায় উত্তর একই—“হ্যাঁ।” তবু কেন ক্যাম্প ন্যু-তে সেই স্বপ্নময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়নি?
জাভি হার্নান্দেজের মতে, সব শর্ত ঠিক থাকা সত্ত্বেও বার্সার সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা ‘ক্ষমতার লড়াই’ এড়াতে মেসির ফেরা আটকে দিয়েছিলেন। লা মাসিয়ার একাডেমি থেকে মূল দলে আসা মেসি ক্যাম্প ন্যু-তে প্রায় দুই দশক কাটিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি পিএসজি-তে যোগ দেন এবং দুই বছর পর মেজর লিগ সকারের ইন্টার মায়ামিতে চলে যান। তবে মায়ামি নয়, আসলেই তিনি চাইতেন শৈশবের ক্লাব বার্সায় ফিরতে।
স্প্যানিশ দৈনিক ‘লা ভানগার্দিয়া’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাভি বললেন, “মেসির সঙ্গে সব কথাবার্তা হয়ে গিয়েছিল। বিশ্বকাপ জেতার পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সে আমাকে জানায়, সে ফিরতে চায়। লা লিগা থেকেও সবুজ সংকেত পেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সব ভন্ডুল করে দেন সভাপতি।” জাভি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা একটা লাস্ট ড্যান্সের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, ঠিক মাইকেল জর্ডানের মতো। কিন্তু সেটা আর হলো না।”
জাভি আরও জানান, লাপোর্তা বলেছিলেন, “মেসি ফিরলে সে আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। আমি সেটা হতে দিতে পারি না।” এরপর মেসি হঠাৎ ফোন ধরাও বন্ধ করে দেন।
তবে লাপোর্তা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নির্বাচনী বিতর্কে তিনি বলেন, “জাভি হয়তো এখনও পুরনো ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। আমি দেখছিলাম, জাভির অধীনে আমরা হারছিলাম। একই খেলোয়াড়দের নিয়ে হান্সি ফ্লিকের অধীনে আমরা জিতছি। তাই সমস্যা স্পষ্ট।” লাপোর্তা দাবি করেন, মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসিই তাঁকে জানিয়েছিলেন যে মেসি বার্সায় ফিরতে চান না, কারণ ফিরলে চাপ অনেক বেশি হবে।
বার্সেলোনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৭২ গোল এবং ৩৪টি ট্রফি জেতা এই মহাতারকা মেসি যে ঘরে ফিরে আসতে পারলেন না, তার সত্যিকারের কারণ হয়তো চিরকাল ধোঁয়াশার মধ্যে থেকে যাবে।
মেসির বার্সেলোনা সফরের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মূল দলে যোগদান | ২০০৩ |
| ক্যাম্প ন্যু-তে মোট সময় | ~২০ বছর |
| পিএসজি যোগদান | ২০২১ |
| ইন্টার মায়ামি যোগদান | ২০২৩ |
| সর্বোচ্চ গোল | ৬৭২ |
| মোট ট্রফি | ৩৪ |
| ফেরা চাওয়ার সময় | ২০২৩ সালের জানুয়ারি |
এই পুরো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত তাত্ত্বিক দিকের কারণে মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’ কল্পনাপ্রায় স্বপ্নের মতো রয়ে গেল।
