১৯৮২ সালে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা বোকা জুনিয়র্স থেকে স্পেনের বার্সেলোনায় যোগ দেন। ক্লাবে তাঁর সময়কাল দুই বছরের মতো হলেও, এই অল্প সময়েই তিনি মাঠে রেখেছিলেন অসাধারণ ছাপ। মোট ৫৮টি ম্যাচে ম্যারাডোনা ৩৮ গোল করেন। এরপর ৬.৯ মিলিয়ন পাউন্ডে নাপোলিতে যোগ দিয়ে ৭ বছরের ক্যারিয়ারে ক্লাবকে এনে দেন ২টি সিরি আ, ১টি উইয়েফা কাপসহ একাধিক শিরোপা, যেখানে গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৫৭।
তবে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় এখন লিখছেন স্পেনের তরুণ স্ট্রাইকার লামিন ইয়ামাল। ২০২৩ সালে বার্সেলোনার মূল দলে যুক্ত হওয়ার পর থেকে ইয়ামাল জার্সিতে নিজের দাপট দেখাচ্ছেন। গতকাল কোপা দেল রে’তে বার্সেলোনাকে জয় এনে দেওয়া গোলের মাধ্যমে তিনি ম্যারাডোনার বার্সার গোল রেকর্ড ছুঁলেন।
বার্সেলোনায় ম্যারাডোনা ও ইয়ামালের তুলনামূলক পরিসংখ্যান
| খেলোয়াড় | যোগদানের বছর | বয়স (যোগদানের সময়) | মোট ম্যাচ | মোট গোল | উল্লেখযোগ্য টুর্নামেন্ট এবং গোল |
|---|---|---|---|---|---|
| দিয়েগো ম্যারাডোনা | 1982 | 21 | 58 | 38 | লা লিগা: 0, কোপা দেল রে: 0, ইউরোপ: 0 (মোট ক্লাব) |
| লামিন ইয়ামাল | 2023 | 20 | 135 | 39 | লা লিগা: 91 ম্যাচ, 23 গোল; কোপা দেল রে: 9 ম্যাচ, 5 গোল; ইউরোপ: 29 ম্যাচ, 8 গোল |
ম্যাচের বিস্তারিত: বুধবার কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে ৩৯তম মিনিটে ইয়ামাল ‘ডেডলক’ ভাঙেন। পরে রোনাল্ড আরাউহো দ্বিতীয় গোল করেন এবং বার্সেলোনা ২-১ গোলে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে বার্সা কোপা দেল রের সেমিফাইনালে পৌঁছানোর প্রথম দল হিসেবে নাম লেখায়।
ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট জোয়ান লাপোর্তা ইয়ামাল ও আরাউহোর অভিনয়কে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ইয়ামাল একজন সত্যিকারের জাদুকর। তাঁর পা থেকে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে। তবে আমি বিশেষভাবে খুশি রোনাল্ড আরাউহোর জন্য। তিনি গোল করেছেন এবং ম্যাচের শুরু থেকে দৃঢ়ভাবে খেলেছেন। আমাদের অধিনায়কের ফেরা আমাদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছে।”
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে স্পেনের তরুণ স্ট্রাইকার ইয়ামাল বার্সার ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেলেছেন। ২১ বছর বয়সে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া ম্যারাডোনার রেকর্ড অতিক্রম করা যুব ফুটবলারদের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
