রাঁচির সন্ধ্যায় আলো জ্বলার আগেই যেন ম্যাচের উত্তাপ পুরো স্টেডিয়ামকে গ্রাস করে ফেলেছিল। পিচ দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন—৩৪০-এর মতো বড় স্কোর নিরাপদ। কিন্তু ইতিহাস বলে দক্ষিণ আফ্রিকা বড় রান তাড়া করতে ভয় পায় না। ২০১৬ সালে জোহানেসবার্গে ৪৩৫ তাড়া করে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সেই স্মৃতি আজও ক্রিকেটবিশ্বে রোমাঞ্চ জাগায়। তাই রোহিত-কোহলিদের ৩৪৯ রানের ইনিংসও প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ‘নিশ্চিত জয়’ হয়ে ওঠেনি।
ভারতের ইনিংসে কোহলির ব্যাট যেন আবারও তাঁর স্বর্ণযুগে ফেরা ঘোষণা করল। ১৩৫ রানের ইনিংসটি ছিল সংযম, নান্দনিকতা ও শক্তির এক দুর্দান্ত মিশ্রণ। অন্যদিকে রোহিত শর্মা খেললেন ছোট কিন্তু দলকে গতি এনে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। বল আকাশে উঠতেই দর্শক বুঝে যাচ্ছিলেন—আরেকটি রেকর্ড ভাঙা ছক্কা এসেছে হিটম্যানের ব্যাট থেকে। আফ্রিদির রেকর্ড ছুঁয়ে তিনি নিজেকে আবারও প্রমাণ করলেন ওয়ানডের অন্যতম সেরা ‘সিক্স মাস্টার’ হিসেবে।
তবে ভারতের বোলাররা যে শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাতে সবাই ধরে নিয়েছিল, ম্যাচটা ভারতের দিকেই যাবে। কিন্তু ক্রিকেট এমনই অনিশ্চয়তার খেলা। এখানেই ব্রিটজকে, ব্রেভিস আর সবচেয়ে বেশি মার্কো ইয়ানসেন চিত্রনাট্য পুরো বদলে দেন। ইয়ানসেনের ৩৯ বলে ৭০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভারতীয় বোলারদের মুখে তখন স্পষ্ট চাপ। স্টেডিয়ামও যেন থম ধরে অপেক্ষা করছিল—এই ম্যাচে কি তবে নতুন আরেকটি রান তাড়ার ইতিহাস গড়া হবে?
তবে শেষ পর্যন্ত ভারতকে পথ দেখান কুলদীপ যাদব। তাঁর বৈচিত্র্যময় লেগ স্পিন দক্ষিণ আফ্রিকার নীচের সারির ব্যাটসম্যানদের আটকে দেয়। করবিন বশ শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও শেষ ওভারের সমীকরণ প্রোটিয়াদের নাগালের বাইরে চলে যায়।
শেষে ১৭ রানের জয় ভারতের জন্য স্বস্তির হলেও চোখ খুলে দিল—দক্ষিণ আফ্রিকাকে কখনোই হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। সিরিজের পরের ম্যাচ রায়পুরে এখন আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠল।
