পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা
সুপারকম্পিউটার ‘অপ্টার’ অনুযায়ী সিটির জয়ের সম্ভাবনা ফিরতি লেগে ৫৮.৫ শতাংশ। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা কেবলমাত্র ১৩.৪ শতাংশ। এ বিশ্লেষণ মূলত প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানের হারকে কেন্দ্র করে তৈরি।
ইউরোপিয়ান নকআউট পর্বে প্রথম লেগে ৩ গোল ব্যবধান হার এবং পরবর্তী রাউন্ডে রিয়ালের রেকর্ড:
| ক্লাব | প্রথম লেগে ৩+ গোল ব্যবধান হারের পর | পরবর্তী রাউন্ডে উত্তীর্ণ | উল্লেখযোগ্য নোট |
|---|---|---|---|
| রিয়াল মাদ্রিদ | ৩৫ বার | ৩৫ বার | একটিও বাদ পড়েনি |
এই তথ্যই স্পষ্ট করে দেয় কেন সিটির জন্য কাজ কঠিন।
গার্দিওলার ইতিহাস ও মনোভাব
গার্দিওলা প্রথম লেগে হারের পরপরই বাস্তবসম্মত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “এখন? খুব বেশি না।” তবে প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্ট হামের সঙ্গে ১-১ ড্রর পর তার মনোভাব বদলে গেছে। গার্দিওলা খেলোয়াড়দের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন: যদি কেউ মনে করে সিটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না, তাহলে সে খেলুক না।
তিনি বলেন, “তারা যদি বিশ্বাস না রাখে, তাহলে সমস্যা। আমাদের চেষ্টা করতে হবে। হারানোর আর কী আছে!” গার্দিওলা রিয়াল মাদ্রিদের উদাহরণ টানলেন, “মাদ্রিদ কি কখনো ইতিহাসে ৩-০ ব্যবধান থেকে হেরে যায়নি? ৫০টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে তারা কখনো এমন করিনি। কঠিন, তবে চেষ্টা করতে হবে।”
প্রস্তুতি ও কৌশল
ফুটবলকে গার্দিওলা সবসময় সম্ভাবনার খেলা হিসেবে দেখেন। তাই তিনি ফিরতি লেগকে একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবেই নেন। অনুশীলনের পরিবর্তে তিনি খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছেন, যাতে তারা ফুরফুরে মেজাজে মাঠে নামতে পারে। তিনি বলেন, “অনুশীলনে আমাদের অনেক উন্নতি হবে না, তাই তাদের ঘরে রাখা ভালো।”
ফিরতি লেগে সিটির ঘুরে দাঁড়ানোর মূল নির্ভর আর্লিং হলান্ডের ওপর। সর্বশেষ ১৮ ম্যাচে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার মাত্র ৪ গোল করেছেন। গার্দিওলা মনে করেন, গোল করার দায় শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের। তিনি বলেন, “বলটা ঠিক জায়গায় দিতে হবে। প্রথম লেগে চার-পাঁচজন স্ট্রাইকার খেলেও গোল হয়নি।”
ফলত, সিটির সামনে চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ: রিয়ালের ইতিহাসকে অস্বীকার করে প্রতিশোধের ম্যাচে সবকিছু প্রমাণ করা। সিটির এই খেলোয়াড়রা কি পারেন রিয়ালের মাদ্রিদকে ৫০ বছর ধরে গড়ে ওঠা চ্যালেঞ্জের মুখে ঘুরিয়ে দাঁড়াতে? উত্তরের জন্য অপেক্ষা কেবল মাঠেই।
