ব্রাজিলের ফুটবল মাটি নতুন প্রতিভার জন্য কখনও অপ্রতুল নয়। তবে কয়েকজনই সেই প্রতিভাকে সত্যিকারের জাদুতে পরিণত করতে পারে। এমনই একজন হলেন এনদ্রিক ফেলিপে। তিন বছরের বয়সে বাইসাইকেল কিকে খেলতে খেলে ব্রাজিলের পালমেইরাস ক্লাবের পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাবা ডগলাস সুসারের নজর কেড়ে নেন ছেলে এনদ্রিক। পুত্রের ফুটবল দক্ষতার ভিডিওগুলি সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করতে গিয়ে, ডগলাস অনিচ্ছাকৃতভাবেই বিশ্বের নজরে এনদ্রিককে তুলে আনেন।
মাত্র ১১ বছর বয়সে পালমেইরাসের বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ পান এনদ্রিক। এরপর থেকেই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ‘বিস্ময় বালক’ হিসেবে পরিচিত হন তিনি। পাঁচ বছরের মধ্যে দেড় শতাধিক গোল করে মূল দলে স্থান পান এবং ১০৬ বছরের ক্লাব রেকর্ড ভেঙে দেন।
| ক্লাব | রেকর্ড | পূর্ব রেকর্ডধারী | বয়সে গোল |
|---|---|---|---|
| পালমেইরাস | সর্বকনিষ্ঠ গোল | হেইটর (১৯১৬) | ১৬ বছর ৩ মাস ৭ দিন |
| রেকর্ড ভাঙা | এনদ্রিক | – | ১৬ বছর ৩ মাস ৭ দিন |
পালমেইরাসে তার পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করা হয়েছিল ৪০ মিলিয়ন ইউরো, কিন্তু ইউরোপের প্রধান ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ৬৩.৬ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে তাকে দলে ভেড়ায়। চুক্তি অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর তিনি রিয়ালে যোগ দেন।
রিয়ালে যোগ দেওয়ার আগে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক হয় এনদ্রিকের। ১৯৯৪ সালের রোনালদোর পর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের জার্সি ধারণ করেন তিনি। তবে রিয়ালে শুরুটা মন্দ ছিল না। কিছু গুরুত্বপূর্ণ গোল ও অ্যাসিস্ট করলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো ও বেলিংহ্যামের মতো তারকাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফরাসি তারকা এমবাপ্পের উপস্থিতি তাকে আরও বেশি চাপের মুখোমুখি করে।
নিজেকে প্রমাণের জন্য এনদ্রিক লোনে যোগ দেন ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁর সঙ্গে। লিওঁর হয়ে মাত্র ৫ ম্যাচে এক হ্যাটট্রিকসহ ৫ গোল করেন তিনি। আক্রমণের কেন্দ্রে তার দ্রুতগতির ড্রিবল, নিখুঁত ফিনিশিং এবং চাপের মুখে ধীরস্থিরতা তাকে দলের মূল ভরসা করেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবরে তাকে ইতিমধ্যেই ‘লিওঁর নতুন রাজা’ বলা হচ্ছে।
| ক্লাব | ম্যাচ | গোল | হ্যাটট্রিক |
|---|---|---|---|
| লিওঁ | ৫ | ৫ | ১ |
লিওঁতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এনদ্রিককে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ আনচেলত্তির নজরে আবারও তুলে এনেছে। বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তার উপস্থিতি এখন শুধুমাত্র কল্পনা নয়, বরং বাস্তব সম্ভাবনা। লিওঁর নিয়মিত খেলার সুযোগ তাকে আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা দিয়েছে—যা বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের হয়ে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করতে অপরিহার্য।
এভাবে, ব্রাজিলের প্রিয় ‘বিস্ময় বালক’ এনদ্রিক ফেলিপের গল্প শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রমাণের পথে তার চলার এক অনন্য উদাহরণ।
