ক্রিকেটের লেগ বিফোর উইকেট (এল, বি, ডবল্যু) । ক্রিকেট খেলার ৩৬ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন
Table of Contents
ক্রিকেটের লেগ বিফোর উইকেট (এল, বি, ডবল্যু) । ক্রিকেট খেলার ৩৬ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন
১। এল বি ডবল্যু আউট
নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলিতে স্ট্রাইকার এল বি ডবল্যু আউট হবেনঃ
(ক) স্ট্রাইকার যখন বলটি খেলতে চেষ্টা করেন
উইকেটে আঘাত লাগতো এমন একটি সংগত বলকে ব্যাট দিয়ে অথবা ব্যাট ধরা হাতে স্পর্শ করার আগে দেহ, পোশাক বা সাজ-সরঞ্জাম দিয়ে প্রতিরোধ করলে স্ট্রাইকার এল বি ডবল্যু আউট হবেন, যদিঃ
(অ) বলটি একই সরলরেখায় এক উইকেট থেকে অপর উইকেটের মধ্যে অথবা ট্রাইকারের উইকেটের অফসাইডে পাঁচ পড়ে বা একই সরলরেখায় এক উইকেট থেকে অপর উইকেটের মধ্যে পীচ পড়ে এমন একটি বল ফুল পীচে প্রতিহত হয় সেরুপ
ক্ষেত্রে। (আ) সেই সংঘর্ষের বিন্দুটি একই সরলরেখার এক উইকেট থেকে অপর উইকেটের মধ্যে হয়, এমন কি তা বেলের উচ্চতার ওপরে হলেও।
(খ) স্ট্রাইকার যখন বলটি খেলতে চেষ্টা না করেন
অফ স্টাম্পের লাইনের বাইরেও বলটি যদি প্রতিহত হয় ও আম্পায়ার মনে করেন যে স্ট্রাইকার বলটি ব্যাট দিয়ে খেলার প্রকৃত চেষ্টা না করে সেটিকে তাঁর দেহের কোন অংশ দিয়ে বাধা দান করেছেন এবং যদি উপরোক্ত (ক) এ বর্ণিত পরিস্থিতিগুলি প্রয়োগ। করা হয়, তবেই তিনি এল বি ডবল্যু আউট হবেন ।
জ্ঞাতব্য বিষয়
ক্রিকেট খেলার আইনে যতরকম আউট হওয়ার আইন আছে তার মধ্যে এল.বি ডবল্যু, রান আউট ও উইকেটের পিছনে ক্যাচের বিষয়ে সিদ্ধান্তে আম্পায়ারের পক্ষে ভুল হবার বেশি সম্ভাবনা এবং সে জন্য তাদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়। দক্ষ আম্পায়াররা সাধারণত তাঁদের সিদ্ধান্ত দেবার সময় তাড়াতাড়ি না করে আবেদন হলে কয়েক সেকেন্ড ভেবে আউট বা নটআউট-এর সিদ্ধান্ত জানান।
আম্পায়ারদের সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদানে তাঁর সম্মান খেলোয়াড়দের কাছে উন্নত হয় এবং অনিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেয়া সত্ত্বেও তাঁর সম্মানের হানি ঘটতে পারে বরং তাঁর সিদ্ধান্তে বিশ্বাস করে না। ভাল আম্পায়ারদের মনোসংযোগ অসাধারণ হয় এবং মুহূর্তেই তিনি স্থির ও সঠিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার জন্য প্রস্তুত থাকেন। বস্তুত পক্ষে এল বি ডবল্যু আউটের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বেশি বিতর্কমূলক আলোচনার সৃষ্টি করে। আউট দিলে কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানের অসন্তোষের কারণ ঘটে আবার না দিলে বোলার ক্ষুদ্ধ হন।
(ক) একজন স্ট্রাইকার বলটি খেলার চেষ্টা করছেন
সে ক্ষেত্রে এই কয়েকটি শর্ত অনুযায়ী ব্যাটসম্যান এল.বি. ডবুল আউট হবেন।
(খ) একজন স্ট্রাইকার বলটি খেলার জন্য কোন চেষ্টাই করছেন না
সে সব ক্ষেত্রে ক’টি শর্ত অনুযায়ী ব্যাটসম্যান এল বি ডবল্যু আউট হবেন।
এই আইনের মূল বিচার হল যে (১) বলটি কি উইকেট আঘাত করত? (২) লেগ স্টাম্পের বাইরে কি বলটি পাঁচ পড়েছিল? দ্বিতীয় ক্ষেত্রে স্ট্রাইকার এল.বি ডাবল্যু হবেন না।
উপরোক্ত আইনের মূল শর্তগুলি পালন করতে গেলে প্রত্যেক আম্পায়ারের যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাছাড়া (ক) এর (অ) ও (আ) এবং (খ) এর অধীনে যে সব বিষয় বর্ণিত আছে তা ভাল করে ছবির সাহায্যে বোঝা দরকার
নতুন আম্পায়াররা এই আইনটি ভালভাবে পড়ে ও অনুধাবন করে ব্যাটসম্যান ও বোলারের অনুশীলনের সময় নেটে স্টাম্পের পেছনে দাঁড়িয়ে এল.বি. ডবন্যুর সিদ্ধান্ত দেয়া অভ্যাস করলে সুফল পেতে পারেন। এতে তাঁরা বলের “ট্রাজেকটারী” (গতি বদলের বিষয়) পীচের লে আউট (বিন্যাস) দেখে ও ব্যাটসম্যানের ফুট ওয়ার্ক অনুযায়ী কোন বলটি ঠিক স্টাম্পে আঘাত করার নিখুঁত সম্ভাবনা বুঝতে শিখবেন এবং তবেই ম্যাচে নির্ভুল সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম হবেন।
এ বিষয়ে আরও বলা যায় যে তাদের ৯ ইঞ্চির পার্থক্যের কাল্পনিক দুটি লাইন এক উইকেট থেকে আর এক উইকেট অবধি মনে মনে ভেবে রাখা উচিত এবং তারপর বল পীচ পড়ার পর তার গতি অফের বা লেগের দিকে যাচ্ছে কিনা তা পুরোপুরি লক্ষ্য রাখতে হবে বলের গতি দেখার সময় তার কোণ (এঙ্গেল) ও পীচ থেকে লিফ্ট প্রভৃতি ভাল করে বিচার করতে হবে।
তবে সব সময় মনে রাখতে হবে যে বলটি উইকেট লাগত কি না? আর একটি প্রশ্ন মনে রাখা দরকার যে স্ট্রাইকার বলটি খেলার সময় বলটি সর্বপ্রথম তাঁর দেহের কোন অংশে আঘাত করেছে না ব্যাট স্পর্শ করেছে? আগে ব্যাটে লাগলে স্ট্রাইকার আউট হবেন না।
এক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয় বিষয়টি আম্পায়ারকে ভালভাবে লক্ষ্য রাখতেই হবে। স্লো বোলিং যেমন অফ স্পিন, লেগ স্পিন ও গুগলি বল পীচ পড়ার পর বলের বাউন্স ট্রাজেক্টরি বা গতির বদল বোঝা খুবই তাড়াতাড়ি ব্যাপার ও কঠিন। বিশেষত দ্রুত গুগলি বলের ক্ষেত্রে।
কতকগুলি ভ্রান্ত ধারণা খেলোয়াড় মহলে ও দর্শকদের মনে আছে। যেগুলি দূর করা একান্ত প্রয়োজন। স্ট্রাইকার যখন একটি বল স্টাম্পের উচ্চতার ওপরে এবং ৯ ইঞ্চি গ্রন্থের দুটি উইকেট লাইনের মধ্যে দেহের কোন অংশ লাগিয়েছেন, সেক্ষেত্রে অনেকের মনে হবে যে ব্যাটসম্যান এল.বি. ডবল্যু আউট বলে গণ্য হবেন না । কিন্তু বলটি যদি কোন স্লো বোলার ডেলিভারি করেন এবং সেটি স্টাম্পে লাগার সময় নিচু হয়ে পড়ে তাহলে নিঃসন্দেহে আম্পায়ার আউটের নির্দেশ দিতে পারেন।
আবার কারোর ধারণা আছে যে যদি একটি বল স্ট্রাইকারের পায়ে বা শরীরের কোন অংশে ফুল পীচে তবে তিনি এল বি ডবল্যু আউট হবেনই। এই সিদ্ধান্ত তখনই সঠিক হয় যদি বলটি সোজা স্টাম্পে নিঃসন্দেহে সরাসরি আঘাত করতো। কিন্তু বলের গতিতে যখন সুইং থাকে সে ক্ষেত্রে সেটি উইকেটের (১) ভিত্তর না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
আবার স্ট্রাইকার যদি পপিং ক্রীজের বাইরে ফরোয়ার্ড খেলেন তাহলে তিনি এল.বি. ডাবল্যু আউট হবেন না। অবশ্য এই ধারণাটি সর্বক্ষেত্রে সঠিক নাও হতে পারে। বল পাঁচ পড়ার পরই তার ট্রাজেক্টারি ও গতি লেগ স্টাম্পের মধ্যে ছিল কিনা মূল বিষয়। এরপর যা ঘটনা ঘটবে তা এই আইনের অধীনে আউট বা নটআউট হবে। বেশি স্পিন নেয়া পীচে বোলার রাউন্ড দি উইকেট বল করলে তার পক্ষে ব্যাটসম্যানকে এই আইনে আউট করা সুবিধাজনক, যেমন ডান হাতের বোলার রাউন্ড দি উইকেট ডান হাতের ব্যাটসম্যানকে বল করে থাকেন।
উপরোক্ত ১ নং উপধারায় চারটি প্রশ্নের সূক্ষ্ম বিচার করে এবং এই প্রশ্নগুলির পক্ষে সম্মতিসূচক উত্তর পেলেই আম্পায়ার যেন এই আউটের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তবে বলটি যেন আইনসিদ্ধ সংগত ডেলিভারি অর্থাৎ নো বল বা ওয়াইড বল না হয়। প্রশ্ন চারটি হল:
(১) বলটি কি খেলার আগে পীচ পড়েছিল না ফুল পীচ ব্যাটসম্যানকে আঘাত করেছিল? বলটি কি দুই উইকেটের মধ্যে সরলরেখার ওপর পীচ পড়েছিল? সেটি কি স্ট্রাইকারের উইকেটের অফের দিকে পীচ পড়েছিল?
(২) বলটি প্রতিহত হবার সময় সেটা স্ট্রাইকারের দেহের অংশে, পোশাকে, সাজসরঞ্জামে বা ব্যাট ধরা হাতে এদের মধ্যে কোনটায় আগে আঘাত করেছিল।
(৩) স্ট্রাইকারের দেহের অংশ পোশাকে ও সারজসরঞ্জাম-এর মধ্যে বলটির যদি প্রথমে সংঘর্ষ হয় তা কি দুই উইকেটের মধ্যে হয়েছিল, এমন কি যদি এই সংঘষ স্টাম্পের বেলের উচ্চতার উপরেও হয়ে থাকে, তাহলেও ?
(৪) বলটি কি উইকেটে লাগতো?
প্রথম প্রশ্নের সঠিক উত্তর আম্পায়ারের পর্যবেক্ষণের ক্ষমতার ওপরই নির্ভরশীল। তবে লেগ স্টাম্পের বাইরে বল পীচ পড়লে ও সরাসরি ব্যাটসম্যানের শরীরে আঘাত লাগলে আম্পায়ারকে আর এল. বি. ভবদার সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।
স্টাম্পের বাইরে বলটি পড়েছে কিনা এটা বিচার করার জন্য দক্ষতা ও অভ্যাসের প্রয়োজন আছে। কারণ লেগ স্টাম্পের ওপর বলটি পীচ পড়েছে না 5′ বা ১” ইঞ্চি বাইরে পড়েছে এটাই সূক্ষ্ম বিচারের বিষয়। তবে যদি বলটি লেগ স্টাম্পের লাইনের ওপর পড়ে এই আইন অনুযায়ী স্ট্রাইকার এল বি ডবল্যু আউট হতে পারেন
দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, আম্পায়ারদের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ ক্ষমতা এত সুক্ষ্ম হওয়া উচিত, যাতে তিনি যেন বল যখন ব্যাটে সামান্য স্পর্শ হবার পর (গ্রিক প্যাড বা দেহের কোন অংশে লেগেছে এবং তখন কোনটা আগে হয়েছে তা সহজেই বিচার করতে পারেন। এইসব সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত দিতে হলে আম্পায়ারের মনসংযোগ, তীক্ষ্ণ শ্রবণ শক্তি ও দৃষ্টি শক্তির একমত প্রয়োজন। এইগুলির সাথে কঠোর অভ্যাসের দ্বারা আম্পায়ার আম্পায়ারিং জগতে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারবেন। এমন কি স্ট্রাইকারের মাথায় যদি বলটি খেলতে গিয়ে লাগে ও এই আইনের অধীনে সমস্ত শর্তগুলি ঠিকভাবে পূরণ হয়ে থাকে তবে স্ট্রাইকার এল.বি. ভবলা আউট হবেন ।
তৃতীয় প্রশ্ন হলো, স্ট্রাইকার কখনই এল.বি.ডবল হবেন না যদি না তাঁর দেহের কোন অংশ, পোশাক বা সাজ-সরঞ্জাম, দুই উইকেটের দুইটি কাল্পনিক লাইনের ঠিক ভিতরে বলের দ্বারা সংঘর্ষ হয়ে থাকে। বোলার প্রান্তের আম্পায়ারের বিচার বুদ্ধি প্রয়োগ যেন প্রথম সংঘর্ষের মুহূর্তের ভিত্তিতেই হয় এবং এ বিষয়ে পরবর্তী ঘটনার কোন মূল্য নেই। দুই প্রান্তের দুই উইকেটের মধ্যের আয়তক্ষেত্রটি হলো ৯ ×৬৬-এর ভিতরেই ঘটনাগুলি ঘটে থাকে। আম্পায়ার তাঁর সিদ্ধান্তে যেন ধীর, স্থির ও দৃঢ় চিত্ত হন, কারণ অনেক পাকা স্ট্রাইকারই খেলার পর তার আগেকার অবস্থান থেকে তৎক্ষণাৎ সরে যান ও আউট হলে আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে আশ্চর্য হয়ে যান। এসব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে আম্পায়ারের মতামত ও তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে, মাঠের করো নয়।
চতুর্থ প্রশ্নটি হলো, আগেই কয়েকক্ষেত্রে আলোচনা করা হয়েছে। বলটি জমিতে পাঁচ পড়ে কোথায় কোথায় তার গতি শেষ করেছে। এইসব সূক্ষ্ম বিচারের জন্য অভিজ্ঞ আম্পায়ার যতদূর সম্ভব মাথা নিচু করে বোলার প্রান্তে দাঁড়ান যাতে তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দ্বারা বলের ট্রাজেক্টরি বা গতি বদল বুঝতে কোন রকমে ভুল না হয়। স্ট্রাইকার যখন ব্যাক ফুটে বা পিছিয়ে এসে খেলেন তখন বোলার প্রান্তের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত দেয়া অনেকটা সহজ হয়ে যায়, ও তখন তিনি পীচের জ্যামিতি ও বলের গতি বদল ভাল ভাবে বুঝতে পারেন। এই জন্যই এই আইনের প্রশ্ন হল যে বলটি কি উইকেটে ঠিকই লাগতো?
এই আইনে কোথাও বলা নেই যে ব্যাটসম্যান ফরোয়ার্ড খেললে তাঁকে এল. বি. ভল্যু দেয়া যাবে না। তবে সাধারণতঃ এইসব ক্ষেত্রে আম্পায়ার বল স্পিন বা সুইং করলে বা পীচের সাহায্য পেয়ে ঘুরলেও শতকরা ৯৯ ভাগই নিশ্চিত হবেন যে সেটি উইকেটে প্রকৃতই লাগতো না। সেইজন্য দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ রকমভাবে এল.বি. ডবল্যু আবেদন আম্পায়াররা অনুমোদন করেন না। একজন স্ট্রাইকার পপি! ক্রীজের ওপর স্টাম্প থেকে ৪ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে যদি ৩১২ বা´ ফুট পা বাড়িয়ে ফরোয়ার্ড খেলেন তাহলে কোন সুয়িং বা স্পিন করা বল যদি বাড়ানো পায়ে এসে
আঘাত করে তবে সেক্ষেত্রে বলটি উইকেটে লাগার সম্ভাবনা নেই বললেই হয়। তবে ক্ষেত্রে বিশেষে বলটি উইকেটে আঘাত করার সম্ভাবনাও থাকে ।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে বোলার প্রান্তের আম্পায়ার, যতক্ষণ না একজন ফরোয়ার্ড খেলা ব্যাটসম্যানের বলের সঙ্গে সংঘর্ষ হবার পরও তিনি সম্পূর্ণ সরাসরি বলের গতি ভালভাবে দেখে বোঝেন যে বলটি ঠিক উইকেটে লাগতো ততক্ষণ আউট দেবেন না। তবে অভিজ্ঞ আম্পায়ারদের মতে এটা পুরোপুরি অনিশ্চিয়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। সেজন্য বিশেষ বিবেচনা করেই ব্যাটসম্যানকে আউট দেয়া হয় বা হয় না।
বোলার প্রান্তের আম্পায়ারকে প্রত্যেক বল পীচ পড়ার পর তার গতি স্টাম্পের ২৮১২ ইঞ্চি উচ্চতা ছাড়িয়ে ওপর দিয়ে যাচ্ছে না, স্লো বলের ক্ষেত্রে নিচু হয়ে উইকেটে লাগছে, তা বিচারের জন্য আম্পায়ারকে যতটা সম্ভব মাথা নিচু করে বলটি দুই উইকেটের উচ্চতার সমতলের মধ্যে আছে কিনা নিরীক্ষণ করতে হবে। তা না হলে “প্যারালাক্স” হিসাবে ভুল বলে সিদ্ধান্তটি গণ্য হতে পারে। এটা জানা দরকার যে কোন ফুল টস বলে ফরোয়ার্ড খেলতে গিয়ে স্ট্রাইকারের পায়ে লাগার বিষয় আগেই বলা হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে খেললে আম্পায়ারের বোঝার বেশ সুবিধা হয় যে বলটি পীচ পড়ে সুয়িং বা স্পিন করেছে বা কতটা বেঁকে উইকেটে লেগেছে। তাঁর সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে ভুল হবার সম্ভাবনা কম হয় ।
(খ) স্ট্রাইকার যখন বল খেলতে কোন চেষ্টাই করছে না
এই বিষয়টি সঠিক বিচার করতে হলে বোলার প্রান্তের আম্পায়ারকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মূল বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে যে ব্যাটসম্যান সত্যিই ব্যাট দিয়ে বলটি খেলার চেষ্টা করছেন না বল খেলতে গিয়ে ব্যাট চালানোর ভান করছেন বা আদৌ খেলছেন না। এক্ষেত্রে এমন কি বলটি যদি অফ স্টাম্পের বাইরেও স্ট্রাইকারের দেহে, পোশাকে বা সাজসরঞ্জামে সংঘর্ষ করে তাতেও তিনি এই আইনের অধীনে আউট হবেন; যদি অবশ্যই বলটি উইকেটে লাগার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এর বিচার করার দায়িত সম্পূর্ণ আম্পায়ারের ওপর ।
তবে এই সকল বিষয় যেমন ব্যাটসম্যান খেলার ভান করছেন না-খেলার প্রকৃত চেষ্টা করছেন অভিজ্ঞ আম্পায়ারদের মতে নতুন আম্পায়াররা কোন মাঠে দুই প্রান্তে উইকেট পুঁতে ‘লে আউটের” ওপর দড়ি টেনে পীচের জ্যামিতি বোঝা উচিত ও ব্যাটসম্যান প্রকৃত ব্যাট চালানো ভান করছেন কিনা এবং বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পীচ পড়লে তার গতি কোথায় গিয়ে শেষ হচ্ছে বা প্রকৃত বলটি উইকেট লাগতো কিনা তা খড়ি দিয়ে অঙ্কনের দ্বারা তার যথার্থ প্রমাণ বোঝা উচিত।
ক্রিকেট নেটেতে খেলোয়াড়রা যখন অনুশীলন করেন একজন আম্পায়ার সেই সঙ্গে অনুশীলন করে অভ্যাসের মাধ্যমে এল বি ডবল্যু সিদ্ধান্তে দক্ষতা ও বিচক্ষণতা অর্জন করতে পারেন, তাল আম্পায়ার হঠাৎ হওয়া যায় না, ক্রিকেট খেলা চাই, নেটে অনুশীলন ও ম্যাচে আম্পায়ারিং করাই সকলের লক্ষ্য এবং কর্তব্য হওয়া দরকার ।
পরিশেষে আম্পায়ারের সাহস ও উচ্চমানের শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তির সর্বোপরি নিরপেক্ষ বিচার বুদ্ধি এবং ক্রিকেট আইনের সাম্যক জ্ঞান ও সময়ানুযায়ী প্রয়োগ এইসবের দ্বারাই বড় ও প্রতিষ্ঠিত আম্পায়ারের যোগ্যতা অর্জন করা যায়
কয়েকটি বাস্তবিক বিচার-বিবেচনা
ডান হাতে ওভার দি উইকেট বা রাউন্ড দি উইকেট বল করা
সাধারণত ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে ওভার দি উইকেট বল করলে স্টাম্পের কাছ থেকে রিটার্ণ ক্রীজ অবধি যে কোন অংশই বোলাররা বল ছাড়ার সময় ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে সাধারণত বল অফ স্টাম্পের বাইরে পীচ পড়ে উইকেটের দিকে বাঁক নেয়। এসব বলে ডানহাতি ব্যাটসম্যান এল.বি.ডবল আউট হতে পারেন, কিন্তু বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান নয়। এল বি ডবল্যু হওয়া নির্ভর করে বলটি কোথায় পীচ পড়েছিল ও কোন কোণে (অ্যাংগেল) বলটি দেয়া হয়েছিল তার ওপর।
অফ-ব্রেক বোলার ওভার দি উইকেট বল দিলে কখনও কখনও সেটি এমনভাবে ঘুরে যায় যে তাতে এল বি ডবল্যু-র সিদ্ধান্ত দেয়া যায় না। কিন্তু এই বোলাররা আবার রাউন্ড দি উইকেট বল করলে কখনও কখনও ব্যাটসম্যানকে এল বি ডবল্যু আউট করে দিতে পারেন। লেগ ব্রেক বোলারের লেগ স্টাম্পের বাইরে বল পীচ পড়লে তখন ব্যাটসম্যান কখনও এল বি ডবল্যু আউট হবেন না। বর্তমান আইন অনুযায়ী লেগ ব্রেক বোলাররা বেশির ভাগ উইকেট পেয়ে থাকেন গুগলি বলে। বাঁ হাতের ব্যাটসম্যানদের পক্ষে লেগ ব্রেক বোলারকে খেলা অনেক সহজ হয়
আবার ডান হাতে রাউন্ড দি উইকেট বল করার ক্ষেত্রে বোলার বল সামান্য অফ থেকে ঘোরালেই যদি এল বি ডবল্যুর সব শর্ত মানা হয়ে থাকে তবে তিনি উইকেট নিতে পারেন। বল কতটা ঘোরাতে হবে সেটা বলের পীচ ও লেংথের উপর এবং বলটি অফে ও কোন স্টাম্পের ওপর পড়েছিল তার ওপর নির্ভর করে ডান হাতি রাউন্ড দি বোলাররা যত স্টাম্পের কাছাকাছি থেকে বল করবেন ততই তাদের পক্ষে এই আইনের মাধ্যমে উইকেট পাবার সুবিধা হয় ।
বাঁ হাতে রাউন্ড বা ওভার দি উইকেট বল করা-
এই ধরনের বোলাররা সাধারণত প্রসারিত কোণে (অ্যাংগেল) বোলিং ক্রীজ ব্যবহার করে থাকেন। তবে তাঁরাও অফ স্টাম্পের বাইরে বলের পীচ ফেলে বাহুর সাহায্যে (আরমার) ব্যাটসম্যানকে এল বি ডবল্যু আউট করতে পারেন, যদি এই আইনের সমস্ত শর্তগুলি ঠিক মতো মানা হয় ।
যে সব ধীরগতি সম্পন্ন বাঁহাতি বোলাররা বলের লেংথ, নিশানা ও ফ্লাইট ভালভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তাঁরা যদি অফ স্টাম্পের বাইরে বলের পীচ ফেলেন তাহলে ডানহাতি ব্যাটসম্যানকেও এই আইনের অধীনে আউট করতে পারেন। এমন কি বল যদি স্টাম্পের ভেতরে পীচ পড়ে এবং তার গতি একবার সোজা হয়ে যায় তাহলে ও এই শ্রেণীর বোলাররা এল বি ডবল্যু আইনে উইকেট পেতে পারেন ।
আবার বাঁ হাতের ওভার দি উইকেট বোলিং করা মিডিয়াম পেস বোলারের পক্ষে খুব সুবিধাজনক । কারণ তাঁরা স্টাম্পের খুব কাছ থেকে বল করে থাকেন। যদি পীচে বেশি বাউনস্ না থাকে তবে তাঁদের এল বি ডবল্যু পাওয়া ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষেও বিশেষ আশ্চর্যের নয় ।
পৃথিবীর অধিকাংশ চায়নাম্যান বোলার ওভার দি উইকেট বল করে থাকেন। এ বিষয়ে জর্জ ট্রাইবের নাম সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ।
