ইংরেজি ফুটবলের শীর্ষ লিগ জয়ী ক্লাব লেস্টার সিটি এখন বিপজ্জনক অবস্থার মুখোমুখি, যখন তাদের ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে আর্থিক নিয়মভঙ্গের কারণে। এ ঘটনা ঘটেছে তাদের চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলা চলাকালীন, যা প্রায় এক দশক আগে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পর থেকে তাদের উত্থান ও পতনের চক্রকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গত মৌসুমে শীর্ষ লিগ থেকে নামার পর লেস্টার এখন চ্যাম্পিয়নশিপ-এ ১৭তম স্থানে ছিল। কিন্তু এই ছয় পয়েন্ট শাস্তির কারণে তারা লিগে ২০তম স্থানে নেমে এসেছে, এবং কেবল গোল পার্থক্যের কারণে পতনের অঞ্চল থেকে উপরের দিকে রয়েছে।
একটি স্বাধীন কমিশন নির্ধারণ করেছে যে, লেস্টার ২০২৩/২৪ মৌসুম পর্যন্ত তিন বছরের জন্য (২০২১/২২ থেকে ২০২৩/২৪) লাভ ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত নিয়মের সীমা অতিক্রম করেছে প্রায় ২১ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের হারে। এই তিন মৌসুমে ক্লাবের ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি।
লেস্টার সিটি তাদের বিবৃতিতে শাস্তিটি “অসমান্য” বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে যে, তাদের উপস্থাপিত “প্রতিকারক বিষয়গুলো” যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তারা আরও জানিয়েছে, “আমরা সুষ্ঠু ও প্রাসঙ্গিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা গঠনমূলকভাবে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখব।”
চলতি চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুমে লেস্টার সিটি শেষ চারটি ম্যাচে জেতেনি। তাছাড়া, গত মাসে মার্টি সিফুয়েন্টেসকে বরখাস্ত করার পর ক্লাবের স্থায়ী ম্যানেজারও নেই।
ইতিহাসে, লেস্টার ২০১৫/১৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল, যেখানে তারা মৌসুম শুরুর সময় ৫,০০০-১ এর আউটসাইডার হিসেবে ধরা হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে তারা প্রথমবারের মতো এফএ কাপ জিতেছিল। তবে ২০২৩ সালে শীর্ষ লিগ থেকে পতন ঘটে। এরপর এনজো মারেসকা অধীনে তারা দ্রুত পুনরায় শীর্ষ লিগে ফিরে আসে, কিন্তু গত মৌসুমে ৩৮ ম্যাচে মাত্র ছয়টি জয় পেয়ে পুনরায় চ্যাম্পিয়নশিপ-এ নামতে হয়।
নিচের টেবিলে লেস্টার সিটির সাম্প্রতিক তিন মৌসুমের আর্থিক এবং খেলাধুলার পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| মৌসুম | লিগ ফলাফল | জয়/ম্যাচ | আর্থিক ক্ষতি (মিলিয়ন পাউন্ড) | লক্ষ্য অতিক্রম (মিলিয়ন পাউন্ড) |
|---|---|---|---|---|
| ২০২১/২২ | চ্যাম্পিয়নশিপ | ২১/৪৬ | ৭০ | ৭ |
| ২০২২/২৩ | প্রিমিয়ার লিগ | ৬/৩৮ | ৮৫ | ৮ |
| ২০২৩/২৪ | চ্যাম্পিয়নশিপ | ২৬/৪৬ | ৫০ | ৬ |
লেস্টার-এর এই আর্থিক ও খেলাধুলার সংকট শুধু তাদের সমর্থকরা নয়, পুরো ইংল্যান্ডের ফুটবল মহলে নজর কাড়ছে। প্রশ্ন হল, তারা কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং ভবিষ্যতে আবার শীর্ষ লিগে ফিরবে।
