বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শমিত শোম আর ক্যাভালরি এফসির খেলোয়াড় নয়। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ক্লাবটি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারের সঙ্গে সম্পর্কের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ক্লাবটি আরও একজন খেলোয়াড় দিয়েগো গুতিয়েরেজকেও ছেড়ে দিয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং তা নবায়ন না হওয়ার কারণে শমিতকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্লাবের পক্ষ থেকে শমিতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা জানানো হয়েছে। শমিতের তিন বছরের ক্যাভালরি অভিজ্ঞতা দলের জন্য বিশেষভাবে ফলপ্রসূ ছিল।
শমিত শোম ২০২৩ সালে ক্যাভালরি এফসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্লাবের হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় মোট ৭৯টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন। যদিও গোলের দিক থেকে সরাসরি অবদান ছিল না, তিনি ৪টি গোলের অ্যাসিস্ট করেছেন। তার উপস্থিতিতে ক্যাভালরি এফসি ২০২৩ সালে সিপিএল শিল্ড এবং ২০২৪ সালে নর্থ স্টার কাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে।
| বছর | প্রতিযোগিতা | ম্যাচ সংখ্যা | গোল | অ্যাসিস্ট | অর্জন |
|---|---|---|---|---|---|
| ২০২৩ | কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) | ৩৮ | ০ | ২ | সিপিএল শিল্ড জয় |
| ২০২৪ | নর্থ স্টার কাপ | ৪১ | ০ | ২ | নর্থ স্টার কাপ জয় |
| মোট | – | ৭৯ | ০ | ৪ | – |
শমিতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলে ৫টি ম্যাচ খেলে ১টি গোল করেছেন। জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে ২০২৫ সালের জুনে, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে। তার একমাত্র গোলটি আসে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হংকংয়ের বিপক্ষে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে গোল করে তিনি দলকে সমতায় ফেরান, যদিও শেষ মুহূর্তে হংকং জয় নিশ্চিত করে।
শমিতের অভিজ্ঞতা শুধু মাঠে নয়, সিপিএলের সপ্তাহের সেরা খেলোয়াড় ও সপ্তাহের সেরা একাদশে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমেও প্রমাণিত হয়েছে। তার দীর্ঘ কানাডিয়ান লিগ অভিজ্ঞতা তাকে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বর্তমানে ক্লাবহীন শমিত শোমের পরবর্তী গন্তব্য কোন দেশের ক্লাবে হবে, তা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্যাভালরি এফসির সঙ্গে তার বিদায় যদিও স্বাভাবিক চুক্তি প্রক্রিয়ার অংশ, তবু তার অবদান ক্লাব ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
