ভারতীয় ক্রিকেটে বর্তমানে যে অস্থিরতা চলছে তা বহু বছর দেখা যায়নি। একের পর এক সিরিজ হারের পর ফ্যান, মিডিয়া এবং সাবেক ক্রিকেটারদের অভিযোগের তির এখন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের দিকে। কিন্তু বিসিসিআই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—গম্ভীরকে আপাতত সরানো হবে না।
এই ঘোষণা অনেককে বিস্মিত করেছে। কারণ ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ০–৩ ব্যবধানে হারের পর যখন ভারতীয় দল চাপ সামলাতে ব্যস্ত, তখন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৫ বছর পর সিরিজ হার আরও বড় ধাক্কা।
তবু বোর্ড বলছে,
“সমস্যা আছে, কিন্তু কোচ বদল এখন সমাধান নয়।”
বোর্ডের বিশ্লেষণ: কেন সরানো হচ্ছে না গম্ভীরকে
বোর্ডের ব্যাখ্যা মতে,
দলের ভেতরে নতুন ও পুরোনো খেলোয়াড়দের মেলবন্ধন প্রক্রিয়া চলছে
গম্ভীরের চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নষ্ট করা উচিত নয়
সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ; এখন কোচ বদলানো দলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
বোর্ড আরও জানায়, নির্বাচক কমিটি ও অধিনায়কের সঙ্গে বিশদ আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার দিকেই ঝুঁকছে তারা।
গম্ভীরের কৌশল নিয়েই বিতর্ক
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ভারতের পারফরম্যান্স দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন,
“ভারত কি ভুল কৌশলের কারণে হারলো?”
প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু:
অতিরিক্ত টার্নিং উইকেট তৈরি
ব্যাটিং অর্ডারে বারবার পরিবর্তন
ওয়াশিংটন সুন্দরের দায়িত্ব ভুলভাবে বণ্টন
বিশেষত ব্যাটিং বিপর্যয় নিয়ে গম্ভীর বলেছেন,
“আমরা কোনোভাবেই ৯৫/১ থেকে ১২০/৭ হতে পারি না। এ ধরনের অস্থিরতা মেনে নেওয়া যায় না।”
গম্ভীরের ভবিষ্যৎ: সামনে কঠিন পরীক্ষা
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে,
“যদিও গম্ভীরকে সরানো হচ্ছে না, কিন্তু তাকে সময় দেওয়া হচ্ছে খুব সীমিত।”
আগামী সিরিজগুলোতে ভারতের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে গম্ভীর কতদিন দলে টিকে থাকতে পারবেন। বোর্ডও চাইছে, দলকে নতুন রূপে দেখা যাক; আর কোচ হিসেবে গম্ভীরকে সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে হবে।
সবমিলিয়ে, সমালোচনার ঝড় বইলেও গম্ভীর আপাতত নিরাপদ। তবে সামনে তাকে প্রমাণ করতে হবে—তিনি সত্যিই ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঠিক ব্যক্তি।
