২০২৫-২৬ মৌসুমের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দুই-তৃতীয়াংশ ম্যাচ খেলা শেষের পথে। ৩৮ ম্যাচের লিগে আর্সেনাল ২৫ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট অর্জন করে শীর্ষে আছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ২৪ ম্যাচ খেলে আর্সেনালের থেকে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে। পয়েন্ট ব্যবধানের কারণে শীর্ষ দুই দলের মধ্যে শিরোপা-যুদ্ধ প্রায় নির্ধারিত মনে হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুলের ম্যাচ শিরোপার দিক থেকে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ না হলেও, অ্যানফিল্ডে আজ রাত সাড়ে দশটায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে চোখ রাখা উচিত তিনটি কারণে।
১. ইংল্যান্ডের ‘এল ক্লাসিকো’
যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো নাম নেই, ম্যানচেস্টার সিটি বনাম লিভারপুল ম্যাচকে ডাচ কোচ আর্নে স্লট ‘ইংল্যান্ডের এল ক্লাসিকো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ক্লাসিকোর মতোই এই ম্যাচের জন্য দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন।
ইতিহাস বলে, অ্যানফিল্ড সিটির জন্য সবচেয়ে কঠিন মাঠগুলোর একটি। লিভারপুল গার্দিওলার দলের কাছে শেষ ২২ লিগ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে, জিতেছে ১৪টি, বাকি ৭টি ড্র।
নভেম্বরে ইতিহাদে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগে সিটি ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে। আজ জিতলে তারা ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমের পর প্রথমবার একই মৌসুমে লিভারপুলের বিপক্ষে দুই লেগেই জয় নিশ্চিত করবে।
| দল | খেলা | জয় | ড্র | হার | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|---|
| লিভারপুল | 22 | 14 | 7 | 1 | 49 |
| ম্যানচেস্টার সিটি | 22 | 14 | 7 | 1 | 49 |
২. চোটের প্রভাব
লিভারপুলের জন্য সুখবর, জো গোমেজ দীর্ঘ চোটের পর ম্যাচ-ডে স্কোয়াডে ফিরছেন। তবে কোচ আর্নে স্লটের মতে, তিনি শুরুতে একাদশে থাকবেন না। জেরেমি ফ্রিম্পং চোটের কারণে খেলতে পারছেন না।
সিটির ফিটনেসেও চ্যালেঞ্জ আছে। বের্নার্দো সিলভা চোটের কারণে গত সপ্তাহে খেলতে পারেননি এবং তার খেলা অনিশ্চিত। তবে রুবেন দিয়াস হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে ফিরেছেন। গার্দিওলা বলেছেন, “সে ফেরার পর আমরা কয়েক মিনিট খেলতে দিতে পারি, যা আমাদের জন্য ইতিবাচক।”
৩. সিটির গতি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
আর্সেনালের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা সিটি এখন প্রতিটি ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে চায়। লিগ কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করার উদ্যম খেলোয়াড়দের মনোবলকে উজ্জীবিত করেছে। সিটি এখনও প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং লিগ কাপ—সব প্রতিযোগিতাতেই টিকে আছে।
তবে অ্যানফিল্ডের চ্যালেঞ্জ, যেখানে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তারা জিততে পারেনি, সিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। লিগ জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে প্রতি ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
