ফুটবলের বিশ্বকাপ—বিশ্বের সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এই মঞ্চে খেলতে পারা কোনো দেশকেই সহজভাবে মিলে না। কঠোর বাছাইপর্ব পাড়ি দিয়ে, অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ সামলে দলগুলোকে সেখানে পৌঁছাতে হয়। আজকের বাংলাদেশ-ভারতও দর্শক হয়ে টিভি বা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ দেখার অভিজ্ঞতা নিতে বাধ্য, ভাবতে হয়—“আমরাও যদি অংশ নিতে পারতাম।”
তবে বিশ্বকাপের প্রাথমিক দশকে অংশগ্রহণ এতটা গুরুত্ব বহন করত না। ১৯৫০ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্বকাপে এমন পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। ১৬ দলের প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত খেলেছে মাত্র ১৩ দল। অনেক দেশ সুযোগ পাওয়ার পরও নানা কারণে অংশগ্রহণ করেনি।
এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছিল ভারত, বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার), ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন। কিন্তু বার্মা, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন বাছাই শুরুর আগেই নাম প্রত্যাহার করে নেয়, ফলে কোনো ম্যাচ না খেলেই ভারতের বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তারপরও ভারত অংশ নেয়নি। দলের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘ ব্রাজিল ভ্রমণের অসুবিধা মূল কারণ ছিল। অল ইন্ডিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ১৯৫২ হেলসিংকি অলিম্পিককে বিশ্বকাপের চেয়ে বড় গুরুত্ব দিয়েছিল। আরেকটি কল্পনা হলো, ভারতীয় খেলোয়াড়রা খালি পায়ে খেলত এবং ফিফা খালি পায়ে খেলার অনুমতি না দেওয়ায় ভারত বিশ্বকাপে যায়নি।
ইউরোপের দল স্কটল্যান্ডও সুযোগ পেলেও জাত্যভিমান এবং হোম চ্যাম্পিয়ন না হলে বিশ্বকাপে না যাওয়ার নীতি মেনে অংশ নেয়নি। তুরস্ক আর্থিক কারণে, পর্তুগাল যোগ্যতা অর্জন না করার যুক্তিতে, ফ্রান্স ভ্রমণ ক্লান্তি ও দূরত্বের কারণে এবং আয়ারল্যান্ড খরচের কারণে বিশ্বকাপে অংশ নেনি।
১৯৫০ বিশ্বকাপে না যাওয়া ছয়টি দল
| দেশ | না যাওয়ার কারণ | বিস্তারিত মন্তব্য |
|---|---|---|
| ভারত | আর্থিক সমস্যা, অলিম্পিক প্রাধান্য, খালি পায়ে খেলা | বাছাই ছাড়াই সুযোগ পেলেও অংশ নেয়নি |
| স্কটল্যান্ড | জাত্যভিমান, হোম চ্যাম্পিয়ন না হলে না যাওয়া | ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন, স্কটল্যান্ড রানার্সআপ |
| তুরস্ক | আর্থিক সীমাবদ্ধতা | সিরিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার পরও অংশ নেয়নি |
| পর্তুগাল | যোগ্যতা অর্জন না করা | ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান |
| ফ্রান্স | ভ্রমণ দূরত্ব ও ক্লান্তি | প্রথমে রাজি হলেও পরবর্তীতে সরে দাঁড়ায় |
| আয়ারল্যান্ড | আর্থিক কারণে | ফিফার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় |
১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ প্রমাণ করে যে কেবল যোগ্যতা থাকলেই পর্যাপ্ত নয়। অর্থ, নীতি, জাত্যভিমান ও দূরত্ব—এসব কারণে বহু যোগ্য দল মাঠের বাইরে থেকে ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।
