স্বপ্ন ভাঙলো পার্থের মাটিতে চার গোলে

দূরত্বটা প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। একপাশে সিডনি, অন্যপাশে পার্থ। ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়াম-এর প্রেসবক্সে বসে চীনের ও উত্তর কোরিয়ার গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াই দেখছিলাম, কিন্তু চোখ বারবার আটকে যাচ্ছিল পার্থ স্টেডিয়াম-এর মাঠে—বাংলাদেশ বনাম উজবেকিস্তান ম্যাচে।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের স্বপ্ন ছিল স্পষ্ট: প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। ১২ দলের এই টুর্নামেন্টে গ্রুপ থেকে অগ্রসর হওয়ার জন্য একটি বড় ব্যবধানে উজবেকিস্তানকে হারানো ছিল একমাত্র সমীকরণ। দলের মধ্যে বিশ্বাস ছিল—দুঃসাহসী হলেও অসম্ভব নয়।

কিন্তু মাঠের বাস্তবতা অন্যরকম। তিন পরিবর্তন নিয়ে নামা বাংলাদেশ ৪-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল। ১২ দলের মধ্যে প্রথম বিদায় ছিল বাংলাদেশের।

গ্রুপ ফলাফল

দলম্যাচজিতেহারড্রগোল পার্থক্যপয়েন্ট
চীন3300+39
উত্তর কোরিয়া3210+46
উজবেকিস্তান3120-33
বাংলাদেশ3030-40

উজবেকিস্তান এই জয় দিয়ে গ্রুপ থেকে তৃতীয় অবস্থানে থেকে শেষ আটে জায়গা করে নিতে পারে। তবে নিশ্চিত হওয়া যাবে ‘সি’ গ্রুপের শেষ দিনের ম্যাচ—ভিয়েতনাম বনাম জাপান ও ভারত বনাম চাইনিজ তাইপে—এর পর।

পার্থে মাঠে ম্যাচের শুরু থেকে উজবেকিস্তান আধিপত্য দেখাতে শুরু করে। ১০ মিনিটেই দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভার গোলের মাধ্যমে তারা এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ কিছুটা ছন্দ ফিরে পেতে চেষ্টা করে, কিন্তু ৩১ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার শট এবং ৪২ মিনিটে তহুরা খাতুনের পাস কাজে লাগে না।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ বাড়াতে সুইডেনপ্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে নামানো হলেও, ৬২ ও ৬৬ মিনিটে দুই গোলের মাধ্যমে উজবেকিস্তান বাংলাদেশের স্বপ্ন কার্যত শেষ করে। ৮২ মিনিটে চতুর্থ গোল খেতে হয় এবং শেষ মুহূর্তের সুরভীর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা প্রথমবার এশিয়ার শীর্ষ স্তরের টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করল। যদিও ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, এই টুর্নামেন্ট দেশের ফুটবলের জন্য নতুন শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ যাত্রা হয়তো স্বপ্নের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়নি, কিন্তু পার্থের মাটিতে দাঁড়িয়ে দল শিখেছে—বড় মঞ্চের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে দৃঢ়তা, অভিজ্ঞতা ও স্ট্র্যাটেজির মিল থাকা জরুরি। ভবিষ্যতের কোনো এক এশিয়ান কাপে এই শিক্ষা নতুন গল্পের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Comment