হকির বল খেলার মাঠের বাইরে । হকি খেলার সতেরো নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ হকির বল খেলার মাঠের বাইরে , হকি খেলার সতেরো নম্বর আইন

 

হকির বল খেলার মাঠের বাইরে । হকি খেলার সতেরো নম্বর আইন

বল যখন সম্পূর্ণভাবে ব্যাক লাইন অতিক্রম করে চলে যায় এবং এর ফলে কোন গোল না হয় অথবা বলটি সাইড লাইন অতিক্রম করলে বল খেলার মাঠের বাইরে বলে গণ্য হবে। এ অবস্থায় ১৭.১ ও ১৭.২ অনুসারে খেলা পুনরায় শুরু হবে।

১. সাইড লাইনের উপর দিয়ে

(ক) যখন সম্পূর্ণ বলটি সম্পূর্ণভাবে সাইড লাইন অতিক্রম করে ঐ বলটি অথবা অনুরূপ আরেকটি বল যেখান দিয়ে বল সাইড লাইন অতিক্রম করেছিল সেখানে লাইনের উপর রাখতে হবে। সেখান থেকে বলটি অহেতুক বিলম্ব না করে পুশ বা হিটের মাধ্যমে খেলা শুরু করতে হবে। যে দলের দ্বারা বলটি বাইরে গিয়েছিল তার বিপক্ষ দল একাজটি করবে। পুশ বা হিটকারী মাঠের বাইরে বা ভিতরে থাকার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

(খ) বলটি থাকবে স্থির এবং আক্রমণকারী এটি পুশ বা হিট করবেন। পুশ বা হিট করার পর বলকে অবশ্যই নাড়াতে হবে। তবে তা ইচ্ছাকৃতভাবে শূন্যে তোলা যাবে না। এমন বিপজ্জনকভাবে উপরে উঠাবে না যাতে বিপজ্জনক খেলার সৃষ্টি করে বা হবার সম্ভাবনা থাকে।

 

(গ) যে মুহূর্তে বলটি পুশ বা হিট করা হবে তখন বিপক্ষ দলের কোন খেলোয়াড় ৫ গজ দূরত্বের মধ্যে থাকতে পারবে না। যদি বিপক্ষের কোন খেলোয়াড় ৫ গজ দূরত্বের মধ্যে চলে আসে তবে আম্পায়ার পুশ বা হিটের কাজটি পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন। তবে আম্পায়ারের মতে বিপক্ষ দলের কোন খেলোয়াড় যদি সময় বাঁচানোর জন্য ৫ গজ দূরত্বের মধ্যে থাকে তবে পুশ বা হিট করতে দেরি করবেন না।

(ঘ) হিটকারী বলে হিট করার সময় যদি হিট করতে ব্যর্থ হন এবং ধারা ১২.১ (গ) ভংগ না হয় তবে তিনি হিটটি পুনরায় নিতে পারবেন। (ঙ) খেলোয়াড় বলটিকে পুশ বা হিট করার পর উভয় দলের অপর কোন খেলোয়াড় কর্তৃক বলটি স্পর্শিত বা না খেলা পর্যন্ত হিটকারী বলটি খেলতে বা খেলা যায় এমন দূরত্বে আসতে পারবে না।

শাস্তি

এই আইন ভংগ হলে বিপক্ষ দলকে একটি ফ্রি-হিট দিতে হবে।

 

১. ব্যাক লাইনের উপরে

(ক) আক্রমন কারীর দ্বারা

(১) বলটি যখন সম্পূর্ণরূপে বিপক্ষের প্রান্তরেখা অতিক্রম করে যায় কিংবা আক্রমণকারী দল কর্তৃক মাঠের বাইরে চলে যায় এবং এর ফলে কোন গোল না হয় তবে ঐ বলটি অথবা এরূপ একটি বল যেখান দিয়ে বল মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিল সেখান থেকে প্রান্তরেখার ভিতরের কিনারা থেকে ১৬ গজ দূরে বসিয়ে বিলম্ব না করে রক্ষণকারী দল কর্তৃক বল পুশ বা হিটের মাধ্যমে খেলা শুরু করতে হবে।

(২) বলটি স্থির থাকবে এবং হিটকারী বলটিকে পুশ বা হিট করবেন। হিটের দ্বারা বলটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপরে এমনভাবে তোলা যাবে না যাতে এটি মারাত্মক হয় বা বিপজ্জনক খেলার সৃষ্টি হতে পারে বা সম্ভাবনা থাকে ।

(৩) পুশ বা হিট করার সময় বিপক্ষ দলের কোন খেলোয়াড় বলটির ৫ গজের মধ্যে আসতে পারবে না।

(৪) হিটকারী যদি বলটি হিট করতে ব্যর্থ হন এবং ধারা ১২.১ (গ) ভংগ না করেন। তবে তিনি পুনরায় বলে আঘাত করতে পারবেন।

(৫) হিটকারী বলটি পুশ বা হিট করার পর যে কোন দলের একজন খেলোয়াড় বলটিকে স্পর্শ করা বা না খেলা পর্যন্ত হিটকারী পুনরায় খেলতে বা খেলা যায় বলের এমন দূরত্বে যেতে পারবে না বা থাকতে পারবে না।

(খ) রক্ষণকারী দ্বারা

(১) ২৫ গজের মধ্যে থাকা কোন রক্ষণকারী খেলোয়াড়ের অনিচ্ছাকৃত হিটে অথবা স্টিকে বা শরীরে লেগে বলটি যদি প্রান্ত রেখা অতিক্রম করে এবং তাতে কোন গোল না হয় তবে আক্রমণকারী দল নিম্ন বর্ণিতভাবে পুশ বা হিট করে খেলা শুরু করবে।

(ক) বলটি যে স্থান দিয়ে প্রান্ত রেখা অতিক্রম করেছে সেই স্থানের নিকটবর্তি কর্ণার ফ্লাগ হতে আর্ক লাইনের উপর ৫ গজের মধ্যে থেকে আক্রমণকারী দল পুশ বা হিট করবে।

(খ) স্থির বলে আক্রমণকারী পুশ বা হিট করবে। বলটি অবশ্যই তার জায়গা থেকে নড়তে হবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বলটি উঁচুতে উঠাতে পারবে না বা বিপজ্জনক খেলার সৃষ্টি করতে যেতে পারবে না।

(গ) বলে হিট করার সময় বিপক্ষ দলের কোন খেলোয়াড় বলটির ৫ গজের মধ্যে থাকতে পারবে না ।

(ঘ) হিটকারী যদি বলটিতে হিট করতে ব্যর্থ হন এবং ধারা ১২.১ (গ) ভংগ না করেন তবে তিনি পুনরায় বলে হিট করতে পারবেন ।

(ঙ) হিটকারী বলে পুশ বা হিট করার পর উভয় দলের কোন খেলোয়াড় কর্তৃক বল স্পর্শিত না হওয়া পর্যন্ত হিটকারী পুনরায় হিট করতে, হিট করতে যেতে বা বলটি খেলা যায় এমন দূরত্বে থাকতে পারবে না ।

 

২. আম্পায়ারের মতে বলটি খেলোয়াড়ের নিজের ব্যাক লাইনের উপর দিয়ে গোল লাইন অথবা ব্যাক লাইন অতিক্রম করলে যদি রক্ষণকারী ২৫ গজ সীমানার বাইরে থাকে সেক্ষেত্রে দলের খেলোয়াড় কর্তৃক পুশ বা হিটের মাধ্যমে যেখান নিয়ে বল ব্যাক লাইন অতিক্রম করেছিল তার বিপরীত দিকের প্রান্ত রেখার ভেতরের কিনারার ধার থেকে ১৬ গজ দূরে বসিয়ে পুশ বা হিট এর মাধ্যমে পুনরায় খেলা করতে হবে।

(ক) বলটি স্থির থাকবে এবং হিট বা পুশের মাধ্যমে খেলবেন। হিট বা পুশের পর বলটিকে জায়গা থেকে নড়তে হবে এবং ইচ্ছকৃতভাবে উঁচুতে উঠিয়ে মারা যাবে না অথবা এইভাবে মারা যাবে না যাতে বলটি বিপজ্জনক হয় বা হতে পারে।

(খ) বলটিতে হিটকারী ছাড়া বিপক্ষ দলের কোন খেলোয়াড় পুশ বা হিট করার সময় বলটির ৫ গজে মধ্যে থাকতে পারবে না।

(গ) যদি হিটকারী বল মারতে ব্যর্থ হন এবং ধারা ১২.১ (গ) ভংগ না করেন তবে তিনি পুনরায় বলে পুশ বা হিট করতে পারবেন।

(ঘ) হিটকারী বলে পুশ বা হিট করার পর উভয় দলের কোন খেলোয়াড় দ্বারা বলটি স্পর্ণিত না হওয়া পর্যন্ত হিটকারী পুনরায় বলটি খেলতে খেলতে যেতে অথবা খেলা যায় এমন দূরত্বে যেতে পারবে না।

শাস্তি

(১) আক্রমণকারী কর্তৃক এই আইন ভংগ করা হলে রক্ষণদলকে একটি ফ্রি-হিটের সুযোগ দেয়া হবে ।

(২) রক্ষণকারী কর্তৃক সার্কেলের মধ্যে থেকে নেয়া ফি -হটের বল ি বিপজ্জনকভাবে উপরে উঠে যায় সেক্ষেত্রে বিপক্ষকে একটি পেনাল্টি কর্ণার দেয়া হবে।

(৩) রক্ষণকারী কর্তৃক অনিচ্ছাকৃতভাবে সার্কেলের বাইরে এই আইন ভংগ হলে আক্রমণকারী দলকে একটি ফ্রি হিট দেয়া হবে।

(৪) অনিচ্ছাকৃতভাবে রক্ষণকারী দল কর্তৃক সার্কেলের ভিতরে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ২৫ গঞ্জ সীমানায় কিন্তু বৃত্তের বাইরে এই নিয়ম ভংগ করা হে বিপক্ষ দলকে একটি কর্ণার এর সুযোগ দেয়া হবে ।

(৫) রক্ষণকারী খেলোয়াড় কর্তৃক সার্কেলের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে এই আইন ভংগ করা হলে বিপক্ষ দলকে একটি পেনাল্টি স্ট্রোক দেয়া হবে।

(৬) কোন খেলোয়াড় বৃত্তসহ ২৫ গজ সীমানার মধ্যে থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বলটি খেলে বা দিক পরিবর্তন করিয়ে বলটিকে তার নিজস্ব প্রান্ত রেখার উপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠাতে পারবে না।

শাস্তি

এটি করলে বিপক্ষ দলকে একটি পেনাল্টি-কর্ণার দেয়া হবে।

 

খেলোয়াড় ও আম্পায়ারদের জন্য নির্দেশনা

১. (ক) বলটি পুশ বা হিট করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে তুলে মারা যাবে না। কিন্তু পুশ বা হিট করতে গিয়ে যদি বলটি মাঠ থেকে অল্প উঁচুতে উঠে যায় এবং বলটি গড়িয়ে মারার ইচ্ছা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় তবে শান্তি দেয়া যাবে না।

(খ) শুধুমাত্র বলকে স্টিক দ্বারা টাচ করলেই হিট করা হয়েছে ধরা হয় না। বলকে অবশ্যই তার অবস্থান থেকে সরতে হবে। যদি আইন ভংগটি ব্যাক- লাইনের কাছাকাছি হয় তবে রক্ষণকারী দলের ফ্রি হিটটি ব্যাক-লাইন থেকে ১৬ গজ দূরে যে কোন স্থান থেকে করা যেতে পারে।

 

২. (ক) বলটি হিট বা পুশ করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে উঠিয়ে মারা যাবে না। কিন্তু পুশ বা হিট করতে গিয়ে যদি বলটি মাটি থেকে অল্প উঁচুতে উঠে যায় এবং বলটি গড়িয়ে মারার ইচ্ছা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় তবে শাস্তি দেয়া যাবে না। শুধুমাত্র বলকে স্টিক দ্বারা ছুঁয়ে দিলেই হিট করা হয়েছে বলে ধরা হবে না। বলকে অবশ্যই তার অবস্থান থেকে সরতে হবে।

(খ) এই পুশ বা হিটকে কর্ণার বলা হয় ।

(গ) শুধুমাত্র বলকে স্টিক দিয়ে ছুঁয়ে দিলেই হিট করা হয়েছে ধরা হবে না। বলকে অবশ্যই তার অবস্থান থেকে সরাতে হবে।

৩. এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, মারটি বা দিক পরিবর্তনটি ইচ্ছাকৃত ছিল কিনা। রক্ষণকারী তার ব্যাক লাইনে বল পাঠিয়ে একটি গোল বাঁচিয়েছে এটা যেন অবশ্যই আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবন্বিত না করে। পেনাল্টি কর্ণার মারার পদ্ধতি ১৫ নং আইনে বর্ণনা করা আছে।

Leave a Comment