নেইমার ও আসন্ন বিশ্বকাপের মাঝে সময়ের ব্যবধান এখন খুবই কম। মাত্র কয়েক মাসের এই সময়কে কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে পুরোপুরি ফিট করে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে তাঁর ক্লাব সান্তোস। ক্লাবটির লক্ষ্য, আগামী বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচে খেলিয়ে ম্যাচ ফিটনেস নিশ্চিত করা, যাতে জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির আস্থাও অর্জন করা যায়।
আনচেলত্তি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেতে হলে নেইমারকে শতভাগ ফিট হতে হবে। এই শর্ত পূরণে এখন কঠোর পরিকল্পনায় এগোচ্ছে সান্তোস। ক্লাবটির ফিজিও, চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফ একযোগে কাজ করছেন তার পুনর্বাসন ও শারীরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে।
সান্তোসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, কোপা দো ব্রাজিল এবং কোপা সুদামেরিকানা মিলিয়ে আসন্ন সময়ের বেশিরভাগ ম্যাচেই নেইমারকে মাঠে নামানোর চেষ্টা করা হবে। মোট ১৪টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ১৩টিতে তাকে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে কিছু ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার জন্য টানা ম্যাচ খেলা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ধাপে ধাপে ফিটনেস বাড়ানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Table of Contents
নেইমারের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা পরিকল্পনা
নেইমারের শারীরিক অবস্থা উন্নত করতে ক্লাব ও চিকিৎসক দল বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। সম্প্রতি তাঁর হাঁটুতে পুনরায় অস্ত্রোপচার এবং প্লাটিলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়েছে, যা দ্রুত টিস্যু পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
দিনের মধ্যে দুই বেলা করে কঠোর অনুশীলনও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি, যেখানে শক্তি, গতি এবং সহনশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সান্তোসের পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | পরিকল্পনা |
|---|---|
| ম্যাচ অংশগ্রহণ | ১৪টির মধ্যে প্রায় ১৩টি ম্যাচে খেলার লক্ষ্য |
| বিশ্রাম পরিকল্পনা | কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সতর্ক বিশ্রাম |
| অনুশীলন ব্যবস্থা | দিনে দুই বেলা ফিটনেস ট্রেনিং |
| চিকিৎসা পদ্ধতি | প্লাটিলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা ও পুনর্বাসন চিকিৎসা |
| লক্ষ্য | বিশ্বকাপের আগে শতভাগ ম্যাচ ফিটনেস অর্জন |
ক্লাব কোচ কুকা জানিয়েছেন, নেইমারকে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার মতে, প্রতিটি ম্যাচে খেলানোর পাশাপাশি শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়াই হবে মূল কৌশল।
তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে নেইমারের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তিনি খেলবেন কি না। বিশেষ করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ এবং কৃত্রিম ঘাসের মাঠে খেলার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে, কারণ সেখানে চোটের ঝুঁকি বেশি থাকে।
নতুন করে অস্ত্রোপচার ও উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে আবারও নেইমারের হাঁটুতে চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোচ কুকা। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিরতির সময় অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন চলেছে, যাতে দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব হয়।
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে আর মাঠে নামতে পারেননি নেইমার। দীর্ঘ সময় ধরে চোট এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সামনে চ্যালেঞ্জ
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার লড়াই এখন নেইমারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সময় খুবই সীমিত হওয়ায় প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি অনুশীলন এবং প্রতিটি চিকিৎসা সেশন তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে সান্তোস এবং চিকিৎসক দলের সম্মিলিত পরিকল্পনা যদি সফল হয়, তাহলে বিশ্বকাপের আগে আবারও পুরো ফিট নেইমারকে দেখা যেতে পারে—এমনটাই আশাবাদী ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
