লন্ডন ডার্বির এই ম্যাচটা ছিল শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়—এটি ছিল ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধেরও প্রতিচ্ছবি। আর্সেনাল ম্যাচ শুরুর আগে ছিল স্পষ্ট ফেভারিট, বিশেষত তাদের লিগ-ফর্ম বিবেচনায়। কিন্তু ম্যাচের ছবি বদলে দেন চেলসির খেলোয়াড়েরা, বিশেষ করে লাল কার্ড দেখার পরও যেভাবে ১০ জনে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছে দলটি।
প্রথম ৩০ মিনিট ছিল দুই দলের মাঝমাঠের দখল নিয়ে টানাপোড়েন। চেলসির লড়াই ছিল প্রেসিং এবং কাইসেদোর অ্যাংকরিং ভূমিকাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু ৩৮ মিনিটে মেরিনোকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় চেলসির কৌশল ভেঙে পড়ে। তখন অনেকেই ভাবছিলেন আর্সেনাল এখনই গোলের বন্যা বইয়ে দেবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, লাল কার্ডের পর চেলসির খেলোয়াড়রা এক নতুন লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছেন।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আর্সেনালের রক্ষণের এলোমেলো অবস্থার সুযোগ নেয় চেলসি। রিস জেমসের কর্নার থেকে চালোবাহর হেড ছিল পরিকল্পিত। আর্সেনাল এখানে দুই ভুল করে—প্রথমত, নিকট পোস্ট কভার করতে ব্যর্থতা; দ্বিতীয়ত, মধ্যমাঠ থেকে চালোবাহকে মুক্তভাবে বক্সে ঢুকতে দেওয়া।
গোল খেয়ে আর্সেনাল বাড়তি আক্রমণে যায়। আর্তেতার দল তখন ৩-৪-৩ রূপে রূপান্তরিত হয়ে চেলসির ডিপ-ব্লকের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে। সমস্যা ছিল—বক্সের ভেতরে ধার নেই। জেসুস বক্সে জায়গা পাচ্ছিলেন না, ওডেগার্ডকে মার্কিং করা হচ্ছিল টাইটভাবে।
৫৯ মিনিটে আসে সমতার গোল। সাকার ক্রসের সময় চেলসির লাইন এক মুহূর্ত বিচ্ছিন্ন হয়, আর সেই ফাঁকেই মেরিনো গোল করেন। এরপর ম্যাচের বাকি অংশ ছিল একধরনের আর্সেনাল–বনাম–চেলসি ডিফেন্সের যুদ্ধ। ১০ জন নিয়ে চেলসি যেভাবে জোনাল ব্লক তৈরি করে, তা ছিল প্রশংসার দাবি রাখে।
আর্সেনালের জন্য প্রশ্ন চিহ্ন—
• কেন ডেড-বল থেকে তারা বারবার সমস্যায় পড়ে?
• কেন বক্সে ফাইনাল টাচের অভাব?
• কেন সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থতা?
১৩ ম্যাচ শেষে আর্সেনাল ৩০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও এই ড্র শিরোপা লড়াইতে তাদের আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানতে পারে।
চেলসি এক পয়েন্ট পেলেও, এই পারফরম্যান্স দলটিকে নতুন উদ্যম এনে দিতে পারে।
