“১২৬ দিনের বিরতির পর আবারও নেতৃত্বে নাজমুল — কী পরিকল্পনা তিনি ভাবছেন?”

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নাজমুল হোসেন শান্ত দীর্ঘ ১২৬ দিনের বিরতির পর আবারও টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। শেষবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোয় সিরিজে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তিনি স্বেচ্ছায় অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে নাজমুল পুনরায় নেতৃত্বে ফিরেছেন।

শান্ত জানালেন, অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময়টা তার জন্য একটি রিল্যাক্সড ও উপভোগ্য সময় ছিল। তিনি বলেন, “মাঝে যতদিন অধিনায়ক ছিলাম না, সেই সময়টা সত্যিই ভালো কেটেছে। নিজেকে সময় দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি।” তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট তার জন্য সবকিছুর উপরে।

নাজমুলের প্রত্যাবর্তনের পেছনে ছিল বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার প্রক্রিয়া। এই আলোচনায় তাকে পূর্ণ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়ার পরই তিনি দায়িত্ব নিতে রাজি হন। নাজমুল বলেন, “সাবেক ক্রিকেটাররা বোর্ডে আছেন। তাদের দেওয়া পরামর্শ সবসময় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেটাকে সম্মান জানিয়ে আমি ফিরে এসেছি।”

ভবিষ্যতের পরিকল্পনার দিকে তাকিয়ে নাজমুল আশাবাদী যে, বোর্ডের সমর্থন থাকলে তিনি দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যে সমস্যাগুলো হয় বা হতে পারে, সেগুলো আমরা একসঙ্গে সমাধান করব। সবাই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছে।”

নাজমুলের নেতৃত্বে টেস্ট ক্রিকেটে দলের মূল লক্ষ্য এখন স্পষ্ট — জয়। তিন সংস্করণে তিনটি আলাদা অধিনায়কত্বের কাঠামোয় তিনি ও অন্যান্য দুই অধিনায়ক—লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ—একসঙ্গে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। নাজমুল বলেন, “আগে মনে হয়েছিল তিন অধিনায়ক হলে সমস্যা হতে পারে, কিন্তু এখন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়ে সব স্পষ্ট। আমি পুরোপুরি আশাবাদী।”

এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে, যেখানে নাজমুলের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব দলের জন্য বড় প্লাস হতে পারে। তার কথায়, “সবকিছু মিলিয়ে এখন শুধু একটা লক্ষ্য — বাংলাদেশের জয়।”

Leave a Comment