আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের পদচারণা আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ মোট ২৬টি ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণ করবে। এই বৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞে লাল-সবুজের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন ২০২ জন ক্রীড়াবিদ। গত ১ ফেব্রুয়ারি বিওএ নির্বাহী কমিটির এক সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি ও ডিসিপ্লিনসমূহ
এশিয়ান গেমসকে এশিয়ার অলিম্পিক হিসেবে গণ্য করা হয়। জাপানের উন্নত অবকাঠামোয় আয়োজিত এই আসরে বাংলাদেশ তাদের সেরা সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। গত আসরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে এবার ফুটবল, ক্রিকেট ও কাবাডির মতো দলগত খেলার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। শ্যুটিং, আর্চারি এবং অ্যাথলেটিকস থেকে পদক জয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছে বিওএ।
২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রগুলো নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিভাগ | অন্তর্ভুক্ত খেলাসমূহ (ডিসিপ্লিন) |
| দলগত গেমস | ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, কাবাডি, বাস্কেটবল, রাগবি। |
| কমব্যাট স্পোর্টস | বক্সিং, জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্দো, রেসলিং, উশু। |
| ব্যক্তিগত ও টেকনিক্যাল | আর্চারি, শ্যুটিং, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, গলফ, সাইক্লিং, ভারোত্তোলন। |
| অন্যান্য ডিসিপ্লিন | ব্যাডমিন্টন, ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, টেবিল টেনিস, সার্ফিং। |
| বিচ গেমস | বিচ হ্যান্ডবল, বিচ ভলিবল। |
কমনওয়েলথ গেমসের পরিকল্পনা
এশিয়ান গেমসের পাশাপাশি একই বছরের জুলাই-আগস্টে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সীমিত পরিসরে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত যে ইভেন্টগুলোতে বাংলাদেশের সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি, কেবল সেই পাঁচটি ডিসিপ্লিনকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। এই খেলাগুলো হলো— অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার ও ভারোত্তোলন।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে বিওএ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ময়মনসিংহের ত্রিশাল সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স’। গতকাল এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিওএ সভাপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।
সেনাবাহিনী প্রধান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই কমপ্লেক্সটি দেশের ক্রীড়াবিদদের উন্নত প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। তিনি যুবসমাজকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের মানোন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিওএ’র এই বৃহৎ পরিকল্পনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেবল আসন্ন আসরগুলোর জন্যই নয়, বরং ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং সঠিক কোচিং নিশ্চিত করা গেলে জাপানের মাটিতে বাংলাদেশ তাদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
