বাংলাদেশ বল খেলার আইন কানুন আজকের আলোচনার বিষয়। বাংলাদেশ বল বর্তমানে খুব একটা জনপ্রিয় খেলা নয় এক কথা সত্যি। এ খেলার প্রসারও খুব একটা বিস্তৃত নয়। বাংলাদেশের দু’একটা গ্রামে এ খেলার প্রচলন এখনও দেখা যায় । তবে এক সময় এ খেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। এমন কী বৃটিশ সরকার এ খেলা নিষিদ্ধও পর্যন্ত করেছিল। সে অনেক আগেকার কথা। তবে এখন নাম সর্বস্ব হয়ে এ খেলা বাংলাদেশের কোন কোন গ্রামাঞ্চলে আজো টিকে আছে।

Table of Contents
বাংলাদেশ বল খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন
বাংলাদেশ বল মূলত হাতের খেলা। হাত দিয়ে খেলতে হয়। অনেকটা হ্যান্ডবলের মত। তবে হাত ছাড়া পা এবং হাঁটু বাদে কোমরের উপরের যে কোন অংশ এ খেলায় ব্যবহৃত হতে পারে।
খেলার মাঠ
বাংলাদেশ বল খেলা নিয়ে আলোচনা করার শুরুতেই প্রয়োজন মাঠ নিয়ে আলোচনা করার। এ খেলার জন্যে প্রথমে প্রয়োজন হচ্ছে একটি মাঠের। মাঠটি হবে অনেকটা ফুটবল মাঠের মত। মাঠের দৈর্ঘ্য হবে ১০০ ফুট এবং প্রস্থে ৬০ ফুট। মাঠের চারপাশ চুন বা রং দ্বারা চিহ্নিত থাকবে। মাঝখানে থাকবে সেন্টার লাইন । এই সেন্টার লাইন মাঠকে দুইভাগে বিভক্ত করবে। গোলের দৈর্ঘ্য হবে ১২ ফুট এবং পোস্টের উচ্চতা ৭ ফুট। গোল এরিয়ার দৈর্ঘ হবে ২০ ফুট এবং প্রস্থ ১২ ফুট। এটি একটি বক্সের মত হবে। এর দূরত্ব গোলপোস্ট থেকে ১৭ ফুট দূরে হবে।

খেলার বল
খেলায় ব্যবহৃত বল হবে চামড়ার তৈরির। বলটি বাতাস ভর্তি থাকবে। এটি একটি পাঁচ নম্বর ফুটবল হতে পারে।
খেলোয়াড় সংখ্যা
খেলা হবে প্রতিদ্বন্দি দুই দলের মধ্যে। প্রত্যেক দলে থাকবে ১২জন খেলোয়াড়। ৭জন খেলোয়াড় খেলায় অংশগ্রহণ করবে। বাকি খেলোয়াড়েরা অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে থাকবে। এরা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে খেলায় অংশগ্রহণ করবে। খেলোয়াড়েরা অবশ্যই খেলার পোশাক অর্থাৎ জার্সি, শর্টস, জুতো, মোজা ব্যবহার করবে।
টস
খেলার আগে রেফারি টস করবেন। টস জয়ী দল সুযোগ পাবে খেলা শুরু করার অথবা প্রান্ত পছন্দ করার। টস জয়ী দল যেটি সিদ্ধান্ত নেবে বিপক্ষ দল তার বিপরীতটি করবে।
খেলা পরিচালনা
বাংলাদেশ বল খেলা পরিচালনার করার জন্যে একজন রেফারি, দুইজন লাইন্সম্যান এবং দুইজন গোল জাজ থাকবেন। রেফারি খেলা পরিচালনা করবেন এবং লাইন্সম্যান ও গোল জাজদ্বয় তাকে সহায়তা করবেন। কোন সমস্যা দেখা দিলে রেফারি তার মীমাংসা করবেন। সকল ক্ষেত্রেই রেফারির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
খেলা শুরু
রেফারির বাঁশির পর খেলা শুরু হবে। যে দল খেলা শুরু করবে তারা সেন্টার সার্কেল থেকে হাত দিয়ে ছুঁড়ে খেলা শুরু করবে। কেউ বলটি হাতে নিয়ে দু’পা এর বেশি এগাতে পারবে না বা বল হাতে নিয়ে পাঁচ সেকেন্ডের বেশি বল হাতে রাখতে পারবে না। তা আইন বিরুদ্ধ।
এই খেলার গোলকীপার পা দিয়ে বল থামাতে পারে। তবে লাথি মারতে পারে না। এ খেলাতেও ফুটবলের মত অফ সাইড, ফাউল আছে।
খেলার সময়কাল
এই খেলা হবে ২০ + ৫ + ২০ মিনিট = ৪৫ মিনিট। অর্থাৎ প্রত্যেক অর্ধে ২০ মিনিট করে এবং ৫ মিনিট বিরতি। নির্ধারিত সময়ে খেলা ড্র থাকলে অতিরিক্ত ৫ মিনিট করে ১০ মিনিট খেলা হবে।
গোল
যেহেতু এটা হাতের খেলা সেহেতু হাত দিয়ে ছুঁড়ে (কোন নিয়ম ভঙ্গ না করে) গোলে বল ঢোকাল গোল হয়। যে দল যত বেশি গোল করবে খেলায় তারাই জয়ী হবে।
