বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিল

ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে ব্রাজিল নারী অনূর্ধ্ব-১৭ দল। প্রথমবারের মতো তারা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। চলমান যুব বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানো কানাডাকে হারিয়ে এই সুযোগ নিশ্চিত করেছে ‘আমারেলিনহা’রা। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য (০–০) ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ব্রাজিল ৫–৪ ব্যবধানে জয়লাভ করে।

রাবাতের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই কোচ রিলানি সিলভা নেতৃত্বাধীন ব্রাজিল দল মাঠে দাপট দেখায়। শক্তিশালী আক্রমণে একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করে কানাডাকে চাপে ফেলে রাখে তারা। খেলার প্রথম থেকেই ব্রাজিল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে, ফলে কানাডাকে তাদের নিজেদের অর্ধেকেই সঙ্কুচিত হতে হয়। জুলিনহা, মারিয়া এবং এভেলিন একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ভাগ্য সহায় হয় না।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে কানাডা। তারা কয়েকটি আক্রমণ চালায়, তবে ব্রাজিলের গোলরক্ষক আনা মরগান্তি অসাধারণ সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে আক্রমণ রুখে দেন। বক্স ছেড়ে বেরিয়ে এসে তিনি দুর্দান্ত দক্ষতায় কানাডার আক্রমণ বন্ধ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। উইং ব্যবহার করে আক্রমণ সাজাতে থাকে তারা। কাইলান, জুলিয়া পেরেইরা এবং রাভেন্না বেশ কয়েকবার গোলরক্ষক সিসেকে বিপদে ফেললেও নির্ধারিত সময়ে গোল হয়নি।

গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই আবারও নায়ক হয়ে ওঠেন আনা মরগান্তি, যিনি কানাডার মুটিপুলার শটকে দুর্দান্তভাবে রুখে দেন। এরপর ব্রাজিলের পাঁচ শুটারই জালে বল পাঠায় এবং ৫–৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।

এই জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিল নারী অনূর্ধ্ব-১৭ দল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে, যা দেশটির নারী ফুটবলের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

দলগোলফলাফলটাইব্রেকারে ফল
ব্রাজিল U-1700 (নির্ধারিত সময়)5
কানাডা U-1700 (নির্ধারিত সময়)4

এই জয় ব্রাজিলের যুব নারী ফুটবলের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং সেমিফাইনালে পৌঁছানোর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment