আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ডার্বি হারের পর ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন সন্দীপ নন্দী। কিন্তু এবার তিনি নতুন দায়িত্বে ফিরেছেন। নৌশাদ মুসার জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি অনূর্ধ্ব-২৩ দলের গোলরক্ষক কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন।
ভারতের যুব দল ফিফা উইন্ডোতে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ ও ১৮ নভেম্বর দুটি ম্যাচ খেলবে। সেই উপলক্ষে কলকাতায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি শিবির। এই শিবিরে সন্দীপকে নতুন গোলকিপার কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
ছোটবেলাতে শিশির ঘোষ ছিলেন সন্দীপের আইডল ফুটবলার, আর তিনি স্বপ্ন দেখতেন শিশিরের মতো স্ট্রাইকার হওয়ার। বর্ষীয়ান কোচ অমল দত্ত তাঁকে একবার স্ট্রাইকার হিসেবে মাঠে নামিয়েছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত ছোটবেলার কোচ গৌতম সরকারের পরামর্শে তিনি গোলকিপার হন। এরপর তাঁর বিশ্বস্ত হাতের দস্তানা বহু নিশ্চিত গোল আটকিয়েছে। তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়েছিল সোনালি শিবির-মোহনবাগান ম্যাচ, যা জাতীয় দলের দরজা খুলে দেয়।
ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে সন্দীপ ভারতের হয়ে ৫৪টি ম্যাচ খেলেছেন। জাতীয় লিগ এবং আই লিগ জিতেছেন, এছাড়া ইস্টবেঙ্গলের এশিয়ান কাপ জয়ী দলের সদস্যও ছিলেন। ইস্টবেঙ্গল ছাড়াও মোহনবাগান, চার্চিল ব্রাদার্স এবং মাহিন্দ্রা ইউনাইটেডের জার্সি গায়ে খেলেছেন।
কোচ হিসেবে সন্দীপের কেরিয়ারও আলোকিত। তিনি নর্থইস্ট ইউনাইটেড, মহামেডান স্পোর্টিং, ডায়মন্ড হারবার এফসি, রাজস্থান ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে গোলকিপার কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। এই মরশুমে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু লাল-হলুদে তাঁর কোচিং সময়টা সুখকর ছিল না।
শিল্ড ফাইনালের ডার্বিতে প্রভসুখন গিলকে তুলে শুধুমাত্র টাইব্রেকারের জন্য দেবজিৎ মজুমদারকে নামানো হয়েছিল, যা সফল হয়নি। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সন্দীপ। এর জন্য অস্কার ব্রুজো তাঁর ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। যদিও সন্দীপ দাবি করেছেন, তিনি বারবার ক্ষমা চেয়েছিলেন। তারপরও সুপার কাপের জন্য গোয়া যেতেই সমস্ত খেলোয়াড়ের সামনে তাঁকে অপমান করা হয়। এরপরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তবে এখন সব অতীত। এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনের পরও ভারত কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তাই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোই লক্ষ্য। এবার দেখার, নৌশাদ মুসার সঙ্গে জুটি বেঁধে সন্দীপ কেমন কাজ করতে সক্ষম হন।
