ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস ডাকঘরের ‘কাগজে-কর্মচারী’, বাস্তবে নেই কোনো অফিস

মেহেরপুর, বাংলাদেশ: দেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক তারকা ইমরুল কায়েস এখন সরকারি কাগজপত্রে মেহেরপুরের উজলপুর ডাকঘরের কর্মচারী। তার মাসিক বেতন মাত্র ৪,৪৯০ টাকা, কিন্তু গ্রামের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, ডাকঘর নেই, সাইনবোর্ড নেই, অফিস নেই, এমনকি কোনো পোস্টম্যান নিয়মিত কাজ করছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কারণে গ্রামে একাধিক চিঠি প্রেরককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ভিসার কাগজ প্রেরকের কাছে ফেরত গেছে। একই সঙ্গে চাকরির সাক্ষাৎকারের চিঠিও হারিয়েছে।


সরকারি কাগজপত্রে কর্মচারীর নাম

মেহেরপুর প্রধান ডাকঘরের রেকর্ড অনুযায়ী নিম্নোক্ত কর্মচারী উজলপুর ডাকঘরে দায়িত্বে আছেন:

নামপদবিমাসিক বেতন (টাকা)মন্তব্য
ইমরুল কায়েসইডিএ৪,৪৯০বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষক
আব্দুল জলিলইডিএ৪,৪৫০তথ্য অনুপলব্ধ
রাজু আহমেদইডিএমসি৪,৪২০তথ্য অনুপলব্ধ

স্থানীয়রা বলেন, তারা এই কর্মচারীদের কোথায় আছেন তা জানে না, এবং ডাকঘরও গ্রামে কার্যকরভাবে নেই।


গ্রামে ডাকঘরের অনুপস্থিতি: সমস্যা ও প্রভাব

গ্রামে ডাকঘরের অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং সরকারি সেবায় প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগগুলো নিম্নরূপ:

  1. চিঠি ফেরত গেছে: বিদেশ থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ নথি, ভিসার কাগজ ফেরত গেছে।

  2. চাকরির সাক্ষাৎকারের চিঠি হারিয়েছে: প্রার্থী নানান সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।

  3. পোস্ট অফিস নেই: গ্রামের মানুষ সরকারি ডাক সেবার ওপর আস্থা হারাচ্ছে।

এছাড়া, স্থানীয়রা বলছেন, একজন সফল ক্রিকেটার এবং প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হিসেবে এমন পদে থাকা কতটা ন্যায্য, তা প্রশ্নবিদ্ধ। ইমরুল কায়েসের পরিবারও মেহেরপুরে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


ইমরুল কায়েসের বক্তব্য

ইমরুল কায়েস এই বিষয়ে বলেছেন:

“আমি গ্রাম পোস্টমাস্টারদের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করেছি, যাতে মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের ডাক বিভাগের প্রতি আস্থা বাড়ে। চিঠি ফেরত যাওয়ার ঘটনা পোস্টম্যানের ভুল, আমার নয়।”

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।


ডাক বিভাগের পদক্ষেপ

ডাক বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইমরুল কায়েসকে ২০২১ সালে তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ইডিএ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে বেতন মাত্র ৪,৪৯০ টাকা

জেলা প্রশাসকও বিষয়টি খোঁজ নেবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।


গ্রামের চিঠিপ্রেরকদের প্রতিক্রিয়া

গ্রামের সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া সংক্ষেপে:

সমস্যাউদাহরণপ্রভাব
চিঠি ফেরতযুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিসার কাগজ ফেরত গেছেআন্তর্জাতিক কাগজপত্রে বিলম্ব
চাকরির চিঠি হারানোসাক্ষাৎকারের চিঠি হারিয়েছেচাকরির সুযোগে প্রভাব
পোস্ট অফিস অনুপস্থিতগ্রামে অফিস নেই, কোনো পোস্টম্যান নেইসাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ

স্থানীয়রা বলছেন, ডাকঘর প্রতিদিন খোলা থাকা উচিত, যাতে গ্রামবাসী সরকারি সেবা পান এবং গুরুত্বপূর্ণ চিঠি নিরাপদে পৌঁছায়।


সমালোচনা ও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়

  1. একজন জাতীয় ক্রিকেটার ও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য সরকারি পদে থাকলে কি সাধারণ মানুষ নিরাপদভাবে সেবা পাবে?

  2. গ্রামে ডাকঘর অনুপস্থিত, অফিস না থাকা সত্ত্বেও কেন নাম কাগজে রাখা হচ্ছে?

  3. চিঠি ফেরত যাওয়ার ঘটনা নিয়মিত হলে গ্রামীণ মানুষের আস্থা ডাক বিভাগের ওপর ক্ষুণ্ণ হয়।

স্থানীয়রা আশা করছেন, জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Leave a Comment