এক দিনে দুই দেশে দুই ম্যাচ! ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে পাগলাটে কীর্তি

ফুটবলের ইতিহাসে বহু অদ্ভুত ঘটনা আছে, কিন্তু এক দিনে দুই ভিন্ন দেশে দুই দলের হয়ে দুই ম্যাচ খেলার মতো ঘটনা সত্যিকার অর্থেই বিরল। এই অবিশ্বাস্য কীর্তি ঘটিয়েছিলেন ডেনমার্কের মিডফিল্ডার সোরেন লারবি, এবং তা আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে—১৯৮৪ সালে।

অবিশ্বাস্য দিন: ১৩ নভেম্বর ১৯৮৪

দিনটি ছিল ১৩ নভেম্বর ১৯৮৪। বিকেলে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ—ডেনমার্ক বনাম আয়ারল্যান্ড। খেলা শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়, যা ডেনমার্ককে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পথ খুলে দেয়। কিন্তু লারবির দিনের সবচেয়ে দারুণ নাটক এখানেই শেষ হয়নি।

সেই রাতেই তাঁর ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ-এর জার্মান কাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ ছিল বোখুমে। বায়ার্নের জেনারেল ম্যানেজার উলি হোয়েনেস লারবিকে একটি সাহসী প্রস্তাব দেন—
“তুমি প্রথমার্ধ খেলো, আমি তোমাকে প্রাইভেট জেটে নিয়ে যাব। রাতে বায়ার্নের হয়ে মাঠে নামতে পারবে।”

লারবি রাজি হলেও জাতীয় দলের কোচ সেপ পিওনতেক তাঁকে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমার্ধেই তুলে নিতে পারেননি, কারণ তখন স্কোরলাইন ছিল ১-১—ম্যাচে ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

সময়ের সঙ্গে দৌড়

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগে লারবি যখন মাঠে ফিরছিলেন, তখন হোয়েনেস সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বলেন,
“কী হচ্ছে? প্লেন তো অপেক্ষা করছে!”

এরপর ৫৭ মিনিটের মধ্যেই ডেনমার্ক দুই গোল করে ৩-১ এ এগিয়ে যায়। এরপরই লারবিকে পরিবর্তন করা হয়। মাঠ ছাড়ার পর তিনি দ্রুত গোসল সেরে পুলিশি পাহারায় বিমানবন্দরে রওনা হন। ডুসেলডর্ফে পৌঁছলেও সমস্যার শেষ হয়নি—বোখুমের পথে বিশাল যানজটে পড়ে গাড়ি আটকে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি গাড়ি থেকে নেমে প্রায় চার কিলোমিটার দৌড়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছান!

ম্যাচে নামা এবং ফলাফল

স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর দেখা যায় কোচ উডো লাটেক ইতিমধ্যে শুরুর একাদশ ঠিক করে ফেলেছেন। তাই লারবি দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে এবং শেষ পর্যন্ত ২-২ এ শেষ হয়।

পরবর্তী রিপ্লে ম্যাচে লারবি গোলও করেন, বায়ার্ন জেতে ২-০ ব্যবধানে এবং শেষ পর্যন্ত কাপ জিতে নেয় স্টুটগার্টকে হারিয়ে।

আরেকজনও করেছিলেন একই কাণ্ড

১৯৮৬ সালে একই ধরনের কীর্তি করেন ওয়েলসের তারকা মার্ক হিউজ। সেদিন তিনি ওয়েলসের হয়ে খেলেন চেকোস্লোভাকিয়ায় এবং সেই রাতেই বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে কাপ ম্যাচে অংশ নেন। তাঁকেও রাজি করিয়েছিলেন সেই মানুষটি—উলি হোয়েনেস।

Leave a Comment