বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই শুধুই তারকাদের লড়াই নয়—আন্ডারডগদের রূপকথাও। ২০১৮ সালে আইসল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে উঠে সাড়া ফেলেছিল। এবার সেই রেকর্ড ভাঙতে চলেছে ক্যারিবিয়ান সাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও, যারা এখন বিশ্বকাপ খেলার একদম দ্বারপ্রান্তে।
কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার, আয়তন ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার। তাদের মতো ক্ষুদ্র জনপদ থেকে বিশ্বমঞ্চে পা রাখা সত্যিই বিস্ময়কর। শুক্রবার রাতে হ্যামিল্টনে বারমুডাকে ৭–০ গোলে বিধ্বস্ত করে তারা বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে নিজেদের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করেছে। এখন শুধু ১৯ নভেম্বর জ্যামাইকার বিপক্ষে একটি ড্র পেলেই নিশ্চিত হবে তাদের ইতিহাসগড়া বিশ্বকাপ যাত্রা।
| প্রতিপক্ষ | ফলাফল | ভেন্যু |
|---|---|---|
| বারমুডা | কুরাসাও ৭–০ | হ্যামিল্টন |
বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে ২০২৩ সালের মার্চে, যখন তারা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নেমেছিল। বড় ব্যবধানে (০–৭) হারলেও এ ম্যাচ তাদের আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়।
ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার খুব কাছে হলেও কুরাসাও খেলছে কনক্যাকাফ অঞ্চলে। দুটি দ্বীপ নিয়ে গড়া এই রাষ্ট্র ২০১০ সালের পর থেকে নেদারল্যান্ডস রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত দেশ। এখানকার মানুষ ডাচ, ইংরেজি ও পাপিয়ামেন্টো ভাষায় কথা বলে।
তাদের উত্থানের বড় নায়ক ডিক অ্যাডভোকাট, যিনি নেদারল্যান্ডস, রেঞ্জার্স ও সান্ডারল্যান্ডের মতো দল কোচিং করেছেন। দলে রয়েছে ইউরোপীয় লিগে খেলা ফুটবলারও। যেমন বারমুডার বিপক্ষে জোড়া গোল করা জর্ডি পাউলিনা, যিনি আগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলেছেন।
এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে জ্যামাইকা ম্যাচে—একটি ড্র পেলেই ইতিহাসের পাতায় নতুন নাম লেখা হবে: বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ—কুরাসাও।
