ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ মানেই চমক, কৌশলগত ঝুঁকি এবং কঠিন সিদ্ধান্তের মঞ্চ। আর সেই মঞ্চেই আইপিএল ২০২৬–এর রিটেনশন উইন্ডো বন্ধ হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে বড় এক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে চেন্নাই সুপার কিংস (CSK)। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে—তারা আর ধরে রাখছে না শ্রীলঙ্কার গতিতারকা পেসার মাথিশা পাথিরানাকে।
যে পাথিরানাকে একসময় ‘বেবি মালিঙ্গা’ নামে ডাকা হতো, যাকে ডেথ-ওভারের ভয়ংকর অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেই পাথিরানার চেন্নাই অধ্যায় আপাতত থেমে গেল। এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন খেলোয়াড় ছাড়ার খবর নয়; এটি CSK–এর বড় ধরনের দল পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ কৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
Table of Contents
রিটেনশন উইন্ডোর শেষ মুহূর্তের নাটক
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে রিটেনশন তালিকা চূড়ান্ত করার সময়ই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি আরও বিস্ময়কর, কারণ ২০২৫ মেগা নিলামের আগে পাথিরানাকে ১৩ কোটি রুপিতে রিটেইন করেছিল CSK। অর্থাৎ, খুব বেশি সময় আগেও ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আস্থার কেন্দ্রে ছিলেন এই শ্রীলঙ্কান পেসার।
কিন্তু ক্রিকেট শুধু সম্ভাবনার খেলা নয়—এটি ধারাবাহিকতা, ফিটনেস ও নির্ভরযোগ্যতারও খেলা। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে পাথিরানার ক্ষেত্রে এই তিনটি বিষয় নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে, যা শেষ পর্যন্ত CSK–কে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
উত্থান থেকে সংশয়ে: পাথিরানার CSK যাত্রা
মাথিশা পাথিরানার CSK–এ উত্থান ছিল রীতিমতো রূপকথার মতো। ২০২৩ আইপিএল মৌসুমে তিনি যখন প্রথম নিয়মিত সুযোগ পান, তখন খুব কম মানুষই ধারণা করেছিলেন যে তিনি এত দ্রুত দলের অপরিহার্য সদস্য হয়ে উঠবেন।
২০২৩: স্বপ্নের মৌসুম
ম্যাচ: ১২
উইকেট: ১৯
ইকোনমি: ৮.০১
ডেথ-ওভারে তাঁর ইয়র্কার, লো ফুল টস আর অদ্ভুত অ্যাকশনের কারণে ব্যাটসম্যানরা প্রায়ই অসহায় হয়ে পড়তেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা CSK–কে এনে দেয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস। সেই মৌসুমেই তাকে ভবিষ্যতের লিডিং ডেথ বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
ইনজুরি ও অ্যাকশন—সবচেয়ে বড় বাধা
তবে ২০২৩–এর পর থেকেই ছবিটা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে।
২০২৪ মৌসুম: ছন্দপতন
২০২৪ আইপিএলে পাথিরানা পুরো মৌসুম খেলতেই পারেননি। বারবার ইনজুরি তাকে মাঠের বাইরে রেখেছে। কখনো হ্যামস্ট্রিং, কখনো পিঠের সমস্যা—শারীরিক ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।
২০২৫ মৌসুম: প্রত্যাশা পূরণ হয়নি
২০২৫ সালে তুলনামূলকভাবে বেশি ম্যাচ খেললেও আগের ধারাবাহিকতা ফেরাতে পারেননি।
ম্যাচ: ১২
উইকেট: ১৩
সংখ্যাটা খারাপ নয়, কিন্তু CSK–এর মতো দলের ডেথ-ওভার স্পেশালিস্টের জন্য এটি যথেষ্ট ছিল না।
CSK কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, শ্রীলঙ্কা দলে খেলার সময় পাথিরানার বোলিং অ্যাকশনে কিছু পরিবর্তন (Action Tweak) আনা হয়েছে, যা তার স্বাভাবিক গতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলেছে।
