বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বরিশাল নারী ক্রিকেট দল। পুরুষ দলের মতো কখনো জাতীয় ক্রিকেট লিগে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও এবার নারী লিগে তারা শীর্ষে উঠে প্রথমবারের জন্য শিরোপা জিতেছে।
এবারের নারী জাতীয় ক্রিকেট লিগে বরিশাল ১২ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে উঠে ইতিহাস গড়ে। আজ বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে তারা রংপুর বিভাগের বিপক্ষে ১৩ রানে জয় নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ উদযাপন করেছে। সমান ম্যাচ খেলে খুলনা ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় এবং চট্টগ্রাম তৃতীয় স্থানে অবস্থান করেছে।
৮ দলের টুর্নামেন্টে বাকি অবস্থানগুলো এমন:
| দল | জয় | হারা | পয়েন্ট | স্থান |
|---|---|---|---|---|
| বরিশাল | ৬ | ১ | ১২ | ১ম |
| খুলনা | ৫ | ২ | ১০ | ২য় |
| চট্টগ্রাম | ৪ | ৩ | ৮ | ৩য় |
| রংপুর | ৪ | ৩ | ৮ | ৪র্থ |
| রাজশাহী | ৩ | ৪ | ৬ | ৫ম |
| সিলেট | ৩ | ৪ | ৬ | ৬ষ্ঠ |
| ময়মনসিংহ | ২ | ৫ | ৪ | ৭ম |
| ঢাকা বিভাগ | ০ | ৭ | ০ | ৮ম |
বরিশালের সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন লেগ স্পিনার রাবেয়া খান, যিনি ‘সেরা অলরাউন্ডার’ পুরস্কার জিতেছেন। ৭ ম্যাচে রাবেয়া বল হাতে ৯ উইকেট তুলে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ব্যাটিংয়ে তিনি করেছেন ১৭৯ রান, যেখানে স্ট্রাইক রেট ১১৮.৫৪। তার এই পারফরম্যান্সে দলকে দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
বল হাতে রাবেয়ার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি উইকেট শেয়ার করেছেন সুলতানা খাতুন (বরিশাল) এবং ফাতেমা জাহান (চট্টগ্রাম), দুইজনই পেয়েছেন ১৪টি উইকেট, যা ছিল টুর্নামেন্টের শীর্ষস্থানের দাপট। এছাড়া ময়মনসিংহের স্বর্ণা আক্তার ১৩ উইকেট নিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন।
ব্যাটিংয়ে সিলেটের শামীমা সুলতানা ৭ ইনিংসে ২৭৫ রান করে সেরা ব্যাটসম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। স্ট্রাইক রেট ছিল ৯৬.৪৯। সমান ম্যাচে বরিশালের ফারজানা হক ২৫৪ রান করে দ্বিতীয়, আর রংপুরের জুরাইয়া ফেরদৌস ১৮৯ রান করে তৃতীয় স্থান পেয়েছেন। জুরাইয়া ফেরদৌস পেয়েছেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় পুরস্কারও।
বরিশালের জয় শুধু সংখ্যা বা পয়েন্টের কাহিনী নয়; এটি নারী ক্রিকেটের জন্য একটি বড় মাইলফলক। এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নারী ক্রীড়াবিদদের প্রতি সমীহ ও স্বীকৃতি আরও বাড়ছে।
ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই বরিশাল দল আক্রমণাত্মক ও ধারাবাহিক খেলা প্রদর্শন করেছে। রংপুরের বিপক্ষে তারা শুরু থেকেই বল এবং ব্যাটিংয়ে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের নেতৃত্ব দেখিয়েছেন, এবং নতুন উদীয়মান ক্রিকেটাররা দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
বরিশাল নারী দলের কোচ বলেছেন,
“এটি আমাদের জন্য ইতিহাসের দিন। আমাদের খেলোয়াড়রা পুরো টুর্নামেন্টে তাদের সেরাটা দিয়েছেন। বিশেষ করে রাবেয়া এবং ফারজানার পারফরম্যান্স আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মূল চাবিকাঠি। আশা করি এই সাফল্য বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
এই জয় শুধু বরিশাল নারী দলের জন্য নয়, বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য একটি অনন্য অধ্যায়। পুরুষ দলের তুলনায় বরিশাল কখনো জাতীয় লিগ জেতেনি, কিন্তু নারী দলের এই সাফল্যে তারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের নাম গড়ে তুলেছে।
আগামী নারী জাতীয় লিগে বরিশালের এই দল নতুন উদীয়মান খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ হবে। তাদের এই চমকপ্রদ জয়ে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা অনুপ্রাণিত হবেন এবং দেশের নারী ক্রিকেটের মান আরও উন্নত হবে।
বরিশাল নারী দলের এই চ্যাম্পিয়নশিপ শুধু একটি শিরোপা নয়, এটি নারী ক্রীড়াবিদদের আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতার দৃঢ় প্রতীক। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা এখন নতুন উদীয়মান নারী ক্রিকেটারদের দিকে আশার দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন, এবং আগামী মরশুমে আরও চমকপ্রদ খেলা আশা করছেন।
