বাংলাদেশ জাতীয় দলের গোলপোস্ট এখন যেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। প্রথম পছন্দ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকুর নিষেধাজ্ঞার পর হাভিয়ের কাবরেরার ভরসা হয়ে উঠেছিলেন মিতুল মারমা। ঢাকায় সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগ পর্যন্ত তাঁর পারফরম্যান্স ছিল স্থিতিশীল। কিন্তু সেপ্টেম্বরের সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগের দিন বড় ভাইয়ের মৃত্যু যেন সবকিছু বদলে দেয়। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় মাঠে নামা মিতুলের ভুলেই বাংলাদেশ হজম করে দুটি গোল, আর ম্যাচও হাতছাড়া হয়।
এরপর ধারাবাহিকতা ফিরে পায়নি তাঁর পারফরম্যান্স। হংকংয়ের বিপক্ষে পোস্টের নিচে তাঁকে অনিশ্চিত দেখা গেছে, আর নেপালের বিপক্ষে তাঁর ভুলে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে সম্ভাব্য জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ। ১৮ ম্যাচ খেলা ২১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের এমন ভুলে সমর্থকদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি এখনও প্রথম একাদশে উপযুক্ত? অনেকে মেহেদি হাসান শ্রাবণ বা সুজন হোসেনকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরছেন।
তবুও, আজ ভারতের বিপক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচে কাবরেরা আবারও ভরসা রাখছেন মিতুলের ওপর। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে তিনি তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। বাছাইপর্বে মিতুল খেলেছেন চার ম্যাচই, যার বিপরীতে গোল খেয়েছেন সাতটি। নেপালের বিপক্ষেও ভুল স্বীকার করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন—ভাই হারানোর যন্ত্রণা মাথায় নিয়েও খেলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কাবরেরা যদিও তাঁর ওপর আস্থা ধরে রেখেছেন, কিন্তু সমালোচকদের যুক্তি—গোলরক্ষকের ধারাবাহিক ভুল বড় ম্যাচে দলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভারতের বিপক্ষে আজকের ম্যাচ তাই কেবল জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, বরং মিতুলের পুনরুত্থানেরও পরীক্ষা।
