বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে চর্চিত ইস্যু এখন একটাই—জামাল ভূঁইয়া কি আজ ভারতের বিপক্ষে প্রথম একাদশে থাকবেন? শিলংয়ের ম্যাচের পর থেকে এ নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। কারণ সেদিন কোচ তাঁকে সংবাদ সম্মেলনে নিয়ে গেলেও পরদিন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামাননি। এরপর টানা সিঙ্গাপুর, হংকং—কোয়াচের পরিকল্পনায় জায়গা হয়নি তাঁর।
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন—একজন ৯২ ম্যাচ খেলা অধিনায়ক হঠাৎ নিয়মিত একাদশের বাইরে কেন? এটি কি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, নাকি ফর্মজনিত? বিশ্লেষকদের মতে, দুই কারণই ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ কাবরেরা সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় জামালকে মাঝমাঠের বিভিন্ন পজিশনে খেলালেও তাঁর কার্যকারিতা আগের মতো প্রভাবশালী ছিল না।
আজকের ম্যাচের সম্ভাব্য একাদশ দেখে মনে হচ্ছে—ডিফেন্সে চারজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়, মাঝমাঠে হামজা–শমিতের ভিত্তি, আর সামনে রাকিব—এই গঠনেই ভরসা রাখতে চান কোচ। ফলে জামালের প্রথম একাদশে থাকার সম্ভাবনা খুব কম।
তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কি অভিজ্ঞতাকে যথার্থভাবে ব্যবহার করছে? ভারতের বিপক্ষে মানসিকভাবে শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অথচ সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ই এখন অনিশ্চয়তার মাঝে।
জামাল অবশ্য পরিণত মনোভাবই দেখিয়েছেন। তিনি বলছেন—খেলতে চান, তবে সিদ্ধান্ত কোচের। সঙ্গে দাবি করছেন—বর্তমান স্কোয়াড বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী। তাঁর আশা—যদি মাঠে নামতে পারেন, অভিজ্ঞতা দিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
ডিফেন্সের দুর্বলতা তিনি স্বীকার করলেও বিশ্বাস করেন—ভারত যদি ওপরে উঠে আক্রমণ চালায়, তাহলে পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশ গোল করার ভালো সুযোগ পাবে। রাকিবকে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুতগতির খেলোয়াড় বলে উল্লেখ করে বলেন—“সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ভারতীয় রক্ষণ ভেঙে দেওয়া সম্ভব।”
সব মিলিয়ে, ভারতের বিপক্ষে আজকের ম্যাচ কেবল বাংলাদেশের নয়—জামাল ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির জন্যও একটি বড় পরীক্ষা। একাদশে থাকুন বা না থাকুন, আলোচনার কেন্দ্রে তিনি থাকবেই।
