১৪ বছর পর অ্যাশেজ জয়ের স্বপ্ন ইংল্যান্ডের! এবার কি শেষ পর্যন্ত হবে বাস্তব?

বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ সিরিজ অ্যাশেজ এবার আরও তীব্র প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক স্টুয়ার্ট ব্রড ইতিমধ্যেই মন্তব্য করেছেন, “এবারের অস্ট্রেলিয়া ২০১০-এর পর সবচেয়ে দুর্বল”, আর ইংল্যান্ড অনেক শক্তিশালী দল হিসেবে সামনে এসেছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ নিশ্চিত করেছেন যে ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ কৌশল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কাজ করবে না। এই কথার লড়াইয়ের মধ্যে, একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—ইংল্যান্ড কি এবার ১৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জয়ী হতে পারবে?

অস্ট্রেলিয়া ২০১৩/১৪ সিরিজে একটিই একাদশ দিয়ে পাঁচটি টেস্ট খেলে ইতিহাস গড়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। শুরুতেই প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজেলউডের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা। এর মধ্যে ডেবিউ করতে যাচ্ছেন ব্রেনডন ডগেট, যিনি ২০১৭ সালের পর প্রথম কোনো বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেক করবেন।

ইংল্যান্ডের কাছে পরিস্থিতি খুব একটা সহজ নয়। জোফরা আর্চার কি ২০১৯ সালের মতো ভয়ঙ্কর বোলিং করতে পারবেন? মার্ক উড পুরো সিরিজে ফিট থাকবেন তো? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বেন স্টোকসের ফিটনেস। স্টোকস একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম, তবে তার ফিটনেস সমস্যা দলকে চিন্তায় ফেলছে।

অপরদিকে, পরিসংখ্যানও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ১২ বার জয় পেয়েছে, যেখানে ইংল্যান্ড মাত্র ২ বার। ইংল্যান্ডের শেষ অ্যাওয়ে ওপেনার জয় ছিল ১৯৮৬/৮৭ মরসুমে। তবে ‘বাজবল’ যুগে ছবি কিছুটা পাল্টেছে—শেষ ১১ সিরিজের ওপেনারদের মধ্যে ৯টি জয় এসেছে ইংল্যান্ডের। এছাড়া, শেষ ৫টি অ্যাওয়ে সিরিজও তারা জিতেছে।

ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটিতে এখন নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। জ্যাক ক্রলি এবং বেন ডাকেটের জুটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনিং জুটি হিসেবে পরিচিত। গত তিন অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটির গড় ছিল ৪০-এর বেশি, কিন্তু ইংল্যান্ডের গড় ছিল মাত্র ২১। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

এদিকে, বাজবল কৌশল অস্ট্রেলিয়ায় কীভাবে টিকে থাকে, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ২০২৩ অ্যাশেজে বড় পরিবর্তন এনেছে। তাদের শটের হার প্রায় ৪০%, যেখানে অন্য দলগুলোর শটের হার ৩০%-এর আশেপাশে থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার গোপন অস্ত্র হতে পারেন স্কট বোল্যান্ড, যিনি ২০২১/২২ সিরিজে ইংল্যান্ডকে বিপদে ফেলেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ অ্যাশেজে বাজবল তার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই হবে স্টিভ স্মিথ এবং জো রুটের মধ্যে। স্মিথ এখন অ্যাশেজ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার দোরগোড়ায় রয়েছেন, তবে জো রুটের অস্ট্রেলিয়ায় সেঞ্চুরি নেই—এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

এবার প্রশ্ন একটাই—ইংল্যান্ড কি ১৪ বছরের পুরনো দুঃখভাগ্য পেছনে ফেলে নতুন এক সূর্যোদয় দেখবে?

Leave a Comment