সেমিফাইনালে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত

রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে গ্রুপপর্বে প্রথম দুই ম্যাচে বড় জয়ের সুবাদে বাংলাদেশ ‘এ’ দল আগে থেকেই সেমিফাইনালের পথ অনেকটাই পরিষ্কার করে ফেলেছিল। সেই কারণেই গ্রুপের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ‘এ’-এর বিপক্ষে অতিরিক্ত চাপ ছিল না। তবে দল চাইছিল গ্রুপসেরা হয়ে শেষ চার নিশ্চিত করতে। কিন্তু দোহায় ওয়েস্ট এন্ড পার্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৬ রানের অল্প ব্যবধানে হেরে সেই পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। যদিও এতে টুর্নামেন্টের অবস্থানে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি—রান রেটে এগিয়ে থেকেই সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকে উত্তেজনা বজায় ছিল। ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ঝড়ো সূচনা করে। মাত্র তিন ওভারেই দলের স্কোর পৌঁছে যায় ২৯ রানে। হাবিবুর রহমান ১৪ বলে ২৭ রান করে দারুণ ছন্দে ছিলেন, কিন্তু আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে চতুর্থ ওভারে আউট হন। সঙ্গী ওপেনার জিশান আলমও ১৬ বলে ১৭ রানের ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।

মধ্য–ক্রমে জাওয়াদ আবরার (২৬) ও অধিনায়ক আকবর আলী (২৫) দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করলেও লম্বা ইনিংস খেলতে না পারায় চাপ বাড়ে। শেষে ম্যাচ দাঁড়িয়ে যায় উত্তেজনাপূর্ণ সমীকরণে—শেষ ওভারে প্রয়োজন ১৮ রান। মিলান রত্নায়েকের দ্বিতীয় বলে ইয়াসির আলীর ছক্কায় ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন জাগলেও পরের চার বল ডট হয়ে সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। শেষ বলে রান নিতে গিয়ে ইয়াসির রানআউট হলে ১৫৩/৬–এ থেমে যায় বাংলাদেশের লড়াই।

এর আগে শ্রীলঙ্কা ইনিংসের মূল ভরসা ছিলেন সাহান আরিচিগে, যিনি ৪৯ বলে ৬৯ রান করে দলকে নিয়ে যান ১৫৯ রানে। রিপন মন্ডল ও আবু হায়দার দুইটি করে উইকেট নিলেও মৃত্যুঘণ্টার ওভারগুলোতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি বোলাররা।

গ্রুপ ‘এ’ থেকে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনালে এবং ‘বি’ গ্রুপ থেকে পাকিস্তান ও ভারত শেষ চার নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত—যা বহু ক্রিকেট–বিশ্লেষকের চোখে “অঘোষিত ফাইনাল” হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment