আজহার আলির হঠাৎ পদত্যাগে পাকিস্তান ক্রিকেটে সৃষ্টি হলো চরম অস্থিরতা

পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে আবারও একটি বড় শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক ও দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার আজহার আলি হঠাৎই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি যুব উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক এবং জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই পদত্যাগ পাকিস্তান ক্রিকেটের ভেতরের অস্থিরতা এবং নীতিগত বিরোধের বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

পিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আজহারের পদত্যাগ বিষয়ে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি যে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না বা নতুন কাঠামো শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে কি না। তবে ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রশাসনিক মতপার্থক্য, নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধ এবং নীতি সংক্রান্ত অস্থিরতা আজহারের পদত্যাগের মূল কারণ।

আজহার আলি মাঠে একজন ব্যতিক্রমী ক্রিকেটার ছিলেন। পাকিস্তানের কদাচিৎ এমন ব্যাটার যারা ওয়ানডে অভিষেকের আগে টেস্টে অভিষেকের সুযোগ পেয়েছেন, আজহার তাদের অন্যতম। ২০১০ সালে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর দ্বিতীয় টেস্টেই ১৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫১ রানের ম্যাচজেতানো ইনিংস খেলেন। ওয়ানডেতে তার ক্যারিয়ার কিছুটা ওঠানামা থাকলেও, মিসবাহ-উল-হকের অবসরের পর দলের নেতৃত্ব সামলানো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

২০১৩ সালে তাঁর পারফরম্যান্স খারাপ হলেও পরবর্তী বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ বলে ১০৩ রানের লড়াকু সেঞ্চুরি তার ফর্ম ফিরে আনে। ২০১৬ সালে তিনি একটি ট্রিপল সেঞ্চুরি খেলেন, যা পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বিরল অর্জন। ওয়ানডে নেতৃত্ব ছাড়ার পরও ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে ওয়ানডে এবং ২০২২ সালে টেস্ট থেকে অবসর নেন আজহার। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৯৭ টেস্টে ৭,১৪২ রান এবং ৫৩ ওয়ানডেতে ১,৮৪৫ রান করা উল্লেখযোগ্য। প্রশাসনিক দায়িত্বে পদত্যাগ করলেও মাঠে তার অবদান চিরকাল পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

Leave a Comment