ঘরের ছেলে ফিরে এলেই কি বদলে যায় এক দেশের ফুটবলব্যবস্থা? অন্তত আর্জেন্টিনায় তেমনই বৈপ্লবিক দৃশ্য দেখা গেল। দীর্ঘ ইউরোপীয় অধ্যায় শেষে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার রোসারিও সেন্ট্রালে ফেরার পরই বদলে গেল লিগের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের নিয়ম। আর সেই পরিবর্তিত কাঠামোর সুবিধা নিয়ে ৩৯ বছর পর শৈশবের ক্লাবে প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা জিতলেন আর্জেন্টাইন তারকা।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) আনুষ্ঠানিকভাবে রোসারিও সেন্ট্রালকে লিগ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে। ১৯৮৬–৮৭ মৌসুমের পর এই প্রথম দলটি লিগ জিতল। তাই ডি মারিয়ার প্রত্যাবর্তন যেন ক্লাবের দীর্ঘ অপেক্ষার মুক্তির মুহূর্ত হয়ে রইল।
Table of Contents
লিগে নতুন নিয়ম: কীভাবে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হলো?
আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবল অনেকের কাছেই জটিল মনে হয়। সাধারণত বছরে দুটি প্রধান টুর্নামেন্ট—অপার্তুরা (বছরের প্রথম ভাগ) এবং ক্লাউসুরা (বছরের দ্বিতীয় ভাগ)—এর মাধ্যমে দলগুলো লড়াই করে। সাধারণ নিয়মে প্রতিটি টুর্নামেন্টে আলাদা চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হয় এবং শেষে উভয় চ্যাম্পিয়ন একটি সুপার ফাইনালে মুখোমুখি হয়।
তবে এবার পরিস্থিতি বদলে গেছে।
এএফএ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অপার্তুরা ও ক্লাউসুরা—দুই টুর্নামেন্টের পয়েন্ট যোগ করেই নির্ধারিত হবে বার্ষিক লিগ চ্যাম্পিয়ন। অর্থাৎ যে দল বছরের মোট সময়ে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট তুলবে তারাই হবে চ্যাম্পিয়ন।
রোসারিও সেন্ট্রাল এই নতুন ব্যবস্থায় বিশাল সুবিধা পায়। দুই টুর্নামেন্ট মিলিয়ে দলটি সংগ্রহ করেছে ৬৬ পয়েন্ট, যা ছিল লিগের সর্বোচ্চ।
পয়েন্ট টেবিল (২০২৫ মৌসুম)
| দল | মোট পয়েন্ট | অবস্থান | ব্যবধান |
|---|---|---|---|
| রোসারিও সেন্ট্রাল | ৬৬ | ১ম | — |
| বোকা জুনিয়র্স | ৬২ | ২য় | ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে |
| রিভার প্লেট | ৫৮ | ৩য় | ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে |
ডি মারিয়ার আবেগ ও নেতৃত্ব
সামাজিক মাধ্যমে ক্লাব জানিয়েছে — “আমরা বছরের সেরা দল।”
এ নিয়ে পেশাদার যুগে রোসারিও সেন্ট্রালের মোট বড় ট্রফির সংখ্যা দাঁড়াল ৮।
ক্লাবের সভাপতি জানান,
“গত কয়েক বছর ধরে আমরা এই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিলাম। যাতে বার্ষিক চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা যায়। আমাদের দল প্রথম ম্যাচ থেকে শেষ পর্যন্ত শীর্ষে ছিল, সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে এবং পুরো বছরে মাত্র দুই ম্যাচ হেরেছে। এই শিরোপা পুরোপুরি প্রাপ্য।”
কিন্তু রোসারিওর গর্বকে আরও অর্থবহ করেছেন ডি মারিয়া। রোসারিওতে ফিরে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন—
“এখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়া—এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। ফিরে আসার স্বপ্ন পূরণ করেছি, এবার সেন্ট্রালকে চ্যাম্পিয়ন করাই আমার ও আমার পরিবারের বড় লক্ষ্য।”
১৫ ম্যাচে ৭ গোল এবং ৬ অ্যাসিস্ট করে ক্লাউসুরা টুর্নামেন্টে স্পষ্টভাবে প্রভাব ফেলেছেন এই তারকা উইঙ্গার। ২০০৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর, এই সেন্ট্রালেই তাঁর অভিষেক হয়েছিল। এরপর ইউরোপ জুড়ে সফল ক্যারিয়ার কাটিয়ে শৈশবের ক্লাবে ফিরে এসে শিরোপা এনে তিনি যেন নিজের পূর্ণচক্র সম্পন্ন করলেন।
৩৯ বছরের অপেক্ষা শেষ: রোসারিও শহরের উৎসব
ডি মারিয়া–নেতৃত্বাধীন দলটি চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা হওয়ার পর রোসারিও শহরে উৎসবের ঢেউ বয়ে গেছে। সমর্থকরা মনে করছেন—ডি মারিয়ার ফেরাই যেন নতুন যুগের সূচনা।
