সাফল্য—যে শব্দটি শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে আলো, স্বপ্ন, প্রশংসা আর উল্লাসের ছবি। কিন্তু এই সাফল্যই কখনো কখনো মানুষের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে আনতে পারে। সেই কঠিন সত্যটিই আবার মনে করিয়ে দিলেন স্পেনের কিংবদন্তি টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল। তাঁর লক্ষ্য এবার লামিনে ইয়ামাল—মাত্র ১৮ বছর বয়সেই যার অর্জনের তালিকা অনেক ফুটবলারের পুরো ক্যারিয়ারকেও হার মানায়।
নাদালের মতে, “সাফল্য সামলানোই সবচেয়ে কঠিন কাজ। ভুল পথে গেলে সাফল্যের আলোই একসময় বিপদের আগুন হয়ে ওঠে।” তাঁর এই কথাগুলো যে শুধু সাধারণ অনুপ্রেরণামূলক কিছু বাক্য নয়, তা বোঝা যায় ইয়ামালের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে।
ইয়ামালের ঝলমলে ক্যারিয়ার কিন্তু বয়স মাত্র ১৮
লা মাসিয়ার সেই ক্ষুদে ফুটবলার এখন বার্সেলোনার আক্রমণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ক্লাবের হয়ে মাত্র কয়েক মৌসুমেই দুইটি লা লিগা, একটি কোপা দেল রে, একটি স্প্যানিশ সুপার কাপ তাঁর হাতে উঠেছে। জাতীয় দলের হয়েও তিনি করেছেন ইতিহাস—স্পেনকে ইউরো জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন।
এতেই শেষ নয়—
ব্যালন ডি’অর রানারআপ
দুইবার কোপা ট্রফি জয়ী (সেরা তরুণ ফুটবলার)
১৮ বছর বয়সী ছেলেটির সামনে তাই সাফল্যের বিশাল সমুদ্র। কিন্তু এই সাফল্যের জোয়ারেই লুকিয়ে আছে ঝড়, এমনটাই মনে করেন নাদাল।
মাঠের বাইরে একের পর এক বিতর্ক
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়ামালের নাম বারবার উঠে এসেছে মাঠের বাইরের খবরগুলোয়—
কখনো প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য
কখনো রাতভর পার্টিতে মত্ত
কখনো আর্জেন্টাইন গায়িকা নিকি নিকোলের সঙ্গে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে
এতে তাঁর ফুটবলের প্রতি মনোযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হলো গুরুতর কুঁচকির চোট, যার কারণে পুরো ২০২৫–২৬ মৌসুমের বড় একটি অংশ মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। তবে ফিরে এসে ১২ ম্যাচে ৬ গোল, ৮ অ্যাসিস্ট করে তিনি জানান দিয়েছেন—খেলায় ফিরলে তিনিই আগের সেই ইয়ামাল।
নাদালের সতর্কবার্তা—‘সাফল্য তোমাকে অসুখীও করতে পারে’
মোভিস্টারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নাদাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন—
“ইয়ামালের চারপাশে এমন মানুষ থাকা দরকার যারা সত্য বলবে, যাদের তিনি বিশ্বাস করতে পারবেন। কারণ আলোয় থাকা একজন তরুণকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সহজ কাজ।”
নাদালের আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ছিল—
“সাফল্য আর খ্যাতি একসময় মানুষকে গ্রাস করতে পারে। যদি সামলাতে না পারো, সাফল্যই তোমাকে অসুখী করে দেবে।”
যে মানুষটি ১৪ বছর বয়সে পেশাদার টেনিসে ঢুকেছেন, ১৯ বছরেই ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতেছেন, যিনি ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেও কখনো নিজেকে হারাতে দেননি—তিনি যখন এমন কথা বলেন, সেটি গুরুত্বহীন নয়।
সামনে কোন পথ বেছে নেবেন ইয়ামাল?
নাদালের মতে, ইয়ামালের সামনে দুটি পথ—
সর্বকালের সেরাদের একজন হওয়া, অথবা
কয়েক মৌসুমের তারকা হয়ে একসময় হারিয়ে যাওয়া।
সিদ্ধান্ত এখন ইয়ামালের হাতেই।
