‘আবেগ দিয়ে দল চালানো যায় না’ — গম্ভীরকে ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য ডি ভিলিয়ার্সের!

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের টেস্ট সিরিজে ২–০ ব্যবধানে হারের পর যখন ক্রিকেটবিশ্বে আলোচনা–সমালোচনার ঝড় বইছে, তখন সেই ঝড়ের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। বিশেষ করে ব্যাক–টু–ব্যাক টেস্ট সিরিজ হারের পর তাঁর নেতৃত্ব, দল নির্বাচন, মানসিকতা এবং কোচিং দর্শন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সব মহলে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার এবি ডি ভিলিয়ার্স।

ভারতের ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ হারার ঘটনা গত দশকে ছিল প্রায় অকল্পনীয়। ২০১৩ থেকে ২০২৪—এই দীর্ঘ সময়ে নিজ মাঠে একটিও টেস্ট সিরিজ হারেনি ভারত। অথচ গম্ভীর কোচ হওয়ার পরপরই সেই ধারার ভাঙন ঘটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩–০ ব্যবধানে হেরে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আবারও ধবলধোলাই হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে।

ভারতের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স

সিরিজপ্রতিপক্ষভেন্যুফলাফল
টেস্ট সিরিজনিউজিল্যান্ডভারত০–৩
টেস্ট সিরিজদক্ষিণ আফ্রিকাভারত০–২

এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণ হিসেবে অনেকে গম্ভীরের আগ্রাসী ও আবেগী স্বভাবকে দায়ী করছেন। তবে ডি ভিলিয়ার্স সরাসরি গম্ভীরকে দোষারোপ করেননি, বরং তাঁর ব্যক্তিত্ব ড্রেসিংরুমে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, সে দিকটি গুরুত্ব দিয়েছেন।

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ইউটিউব চ্যানেলে অতিথি হয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন,
“গম্ভীরকে আমি সবসময় অত্যন্ত আবেগপ্রবণ খেলোয়াড় হিসেবে দেখেছি। এমন কেউ যদি ড্রেসিংরুমেও একই রকম আবেগপ্রবণ থাকে, তা হলে দল অনেক সময় চাপে পড়ে। আবেগপ্রবণ কোচ সবসময় দলের জন্য ভালো নয়।”

তবে গম্ভীরকে ‘অতি আবেগী কোচ’ বলা যাবে কি না, সে বিষয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তিনি।
“আমরা জানি না পর্দার আড়ালে তিনি কেমন নেতৃত্ব দেন। তাই শুধু তাঁর মাঠের আগ্রাসন দেখে বিচার করা ঠিক নয়।”

দল নির্বাচনে গম্ভীরের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন

সাম্প্রতিক দুই সিরিজেই ভারত দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন গম্ভীর। অভিজ্ঞ ব্যাটারদের বাদ দিয়ে অলরাউন্ডার-কেন্দ্রিক স্কোয়াড তৈরি করেছেন, যা এখন বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিজ্ঞতার অভাবে চাপের ম্যাচে তরুণেরা ব্যর্থ হচ্ছে—এমনই মত সাবেক অনেক ভারতীয় ক্রিকেটারের।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পরও ডি ভিলিয়ার্স আশা দেখছেন

ডি ভিলিয়ার্স বলেছেন,
“ভারতের ক্রিকেটে প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। দল এখন রূপান্তরের মধ্যে রয়েছে। কিছু সময় গেলে নতুন কম্বিনেশন থেকেই সফলতা আসবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, কোহলি–রোহিত–অশ্বিনের মতো তারকাদের বিদায়ের পর দল কিছুটা দিশেহারা হলেও এটাকে খুব বড় সংকট হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।

বাভুমার প্রশংসা

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার প্রশংসা করতেও ভুল করেননি এবি।
“টেম্বা দেখতে কঠোর চরিত্রের নেতা মনে না হলেও, বাস্তবে সে দারুণ নেতৃত্ব দেখাচ্ছে। এটা প্রমাণ করে, শান্ত স্বভাবও সফল অধিনায়ক হতে পারে।”

এই মন্তব্যগুলো গম্ভীরের ওপর চাপ আরও বাড়াবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কোচ হিসেবে তাঁর ভবিষ্যৎ এখন ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Leave a Comment