ইউরোপের নবীন রাষ্ট্র কসোভো, যাদের ফুটবল ইতিহাস মাত্র এক দশক পুরোনো, তারা এখন ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়ছে। কারণ সামনে দুই ম্যাচ জিতলেই কসোভো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেবে। আর এরই মধ্যে দেশটির সরকার ঘোষণা করেছে—বিশ্বকাপে উঠলে জাতীয় দল পাবে ২১ কোটি টাকারও বেশি পুরস্কার!
Table of Contents
এই পুরস্কার ঘোষণাই বদলে দিয়েছে দেশের ফুটবলের পরিবেশ
রয়টার্স জানিয়েছে, কসোভো সরকার দলকে পুরস্কার হিসেবে দেবে ১৫ লাখ ইউরো। এ ছাড়াও স্লোভাকিয়াকে হারাতে পারলেই অতিরিক্ত ৫ লাখ ইউরো।
অর্থাৎ কসোভো যদি পরপর দুই ম্যাচ জিতে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে, তাহলে মোট পুরস্কার দাঁড়াবে মোট ২০ লাখ ইউরো।
প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি সংসদীয় বৈঠকে বলেছেন,
“ফুটবল শুধু খেলা নয়; এটি আমাদের দেশের মর্যাদা, একতা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। আমরা চাই আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপে দেশের পতাকা উড়াক।”
বাছাইপর্বে কসোভোর সাফল্য: এটি কোনো সৌভাগ্য নয়
কসোভোর গ্রুপ ‘বি’-তে ছিল শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দল। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপে দ্বিতীয় হয়। টেবিলটি নিচে দেওয়া হলো—
| দলের নাম | ম্যাচ | পয়েন্ট | অবস্থান |
|---|---|---|---|
| সুইজারল্যান্ড | 6 | 14 | ১ম |
| কসোভো | 6 | 11 | ২য় |
| অন্যান্য | – | – | – |
গ্রুপ রানার্স–আপ হয়ে কসোভো উঠেছে ইউরোপিয়ার প্লে–অফে, যা তাদের ইতিহাসে বড় অর্জন।
প্লে–অফে কারা প্রতিপক্ষ?
২৬ মার্চ তারা মুখোমুখি হবে শক্তিশালী স্লোভাকিয়া। জিতলে ফাইনালে প্রতিপক্ষ হবে তুরস্ক বা রোমানিয়া—দুটিই অভিজ্ঞ দল।
এমন প্রতিযোগিতায় কসোভোর পথ কঠিন হলেও যাত্রাটা এখনই তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
কসোভো ফুটবলের বিস্ময়কর উত্থান
২০০৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে ছিল কসোভো। ২০১৬ সালে তারা ফিফা ও উয়েফার সদস্য হয়।
মজার বিষয় হলো—দলটির বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই জন্মসূত্রে কসোভান হলেও বড় হয়েছেন জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে। সেই প্রবাসী খেলোয়াড়রাই এখন দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
বিশ্বকাপে গেলে শুধু পুরস্কার নয়, বদলে যাবে দেশের ফুটবল অর্থনীতি
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ মানে—
আরও স্পনসর
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
কাঠামোগত উন্নয়নে অর্থ প্রবাহ
ঘরোয়া ফুটবলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
আরও প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের আগমন
কসোভো যদি বিশ্বকাপে অংশ নেয়, তাহলে দেশটির ফুটবলে এক নতুন যুগ শুরু হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
শেষ কথা: দুই ম্যাচ—একটি সম্ভাবনা
দুটি ম্যাচ জিতলেই কসোভো বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। পুরস্কারের ঘোষণা খেলোয়াড়দের অদম্য প্রেরণা দিয়েছে। দেশের মানুষও বিশ্বাস করতে শুরু করেছে—ইতিহাস সত্যিই সৃষ্টি হতে পারে।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—কসোভোর ফুটবল রূপকথার নতুন অধ্যায় লেখা হয় কি না।
