অ্যাশেজে দুই দিনে লজ্জাজনক হার, স্টোকসের আবেগী প্রতিক্রিয়া

অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম ম্যাচেই মাত্র দুই দিনের মধ্যে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় ইংল্যান্ড। অথচ শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক—প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও বেশ আরামেই ছিল দলটি। ৯ উইকেট হাতে রেখে ১০৫ রানে এগিয়ে থাকা মানে ম্যাচটি নিজের হাতেই ধরে রাখা। কিন্তু এখানেই যেন বজ্রপাত। মাত্র ৯৯ রানের ব্যবধানে বাকি ৯ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড থেমে যায়, আর সেখানে থেকে শুরু অস্ট্রেলিয়ার ভয়ংকর জবাব।

অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড যেন একাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন ম্যাচের ভাগ্য। মাত্র ২৯ ওভারে ২০৫ রানের লক্ষ্য চিরে ফেলল স্বাগতিক দল। ইংল্যান্ডের বোলারদের মুখে হাসি নেই, মাঠে হতাশায় ভরা শরীরী ভাষা, আর ড্রেসিংরুমে অসন্তোষ—সব মিলিয়ে এক অপ্রত্যাশিত পতনের গল্প।

ম্যাচের পর সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা শুরু হয়। তাঁদের মতে, বেন স্টোকসের দল ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী’, এবং ওই আত্মতুষ্টি বা অহংবোধের কারণেই এমন ধ্বংসাত্মক পরিণতি। কিন্তু স্টোকস এই যুক্তিকে একেবারেই মানতে চাইছেন না। তাঁর ভাষায়, “হ্যাঁ, আমরা রাবিশ খেলেছি। কিন্তু আমরা অ্যারোগেন্ট না।”

স্টোকস জোর দিয়ে বলেছেন, সমালোচনা তাঁরা নেবেন, কিন্তু অহংকারের অভিযোগ তাঁরা বয়ে বেড়াতে রাজি নন। তাঁর মতে, আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা মানে অহংকারী হওয়া নয়; বরং সেটা আত্মবিশ্বাসী খেলাধুলোর মানদণ্ড।

এখন ইংল্যান্ড পুরো মনোযোগ দিচ্ছে ব্রিসবেন টেস্টের প্রস্তুতিতে। খেলোয়াড়রা বিশ্রাম নিয়েই ফিরেছেন কড়া অনুশীলনে। পিংক বলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বিশেষ সেশন চলছে। ৪ নভেম্বর শুরু হবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, যেখানে হারের ধারাকে থামিয়ে সিরিজে ফিরে আসাই তাদের লক্ষ্য। ইতিহাস, মর্যাদা, লড়াই—সবকিছু এবার ঝুঁকির সামনে।

Leave a Comment