বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরকে ঘিরে এবার দেশের ক্রিকেটপাড়ায় বইছে বাড়তি উত্তেজনা। প্রায় এক যুগ পর আবারও নিলাম পদ্ধতি ফিরছে টুর্নামেন্টে, আর এই নিলামের আগ মুহূর্তেই বিসিবি সংযুক্ত করল আরও ১৪ নতুন ক্রিকেটার। এতে যেমন দলগুলো নতুন সমীকরণ সাজানোর সুযোগ পাচ্ছে, তেমনি সমর্থকদের মধ্যেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
প্রথম দুই আসরের পর বিপিএলে নিলাম পদ্ধতি আর চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ড্রাফট পদ্ধতিতেই এগিয়েছে টুর্নামেন্ট। তবে প্রায় বারো বছর পর আবারও নিলামে ফিরে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই বাড়িয়েছে প্রত্যাশা। রোববার (৩০ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে মূল নিলাম। তার আগে বিসিবির এই নতুন তালিকা টুর্নামেন্টকে আরও আলোচনায় এনে দিয়েছে।
বিসিবি নিশ্চিত করেছে, যেসব ক্রিকেটার সম্পর্কে ফিক্সিং–সংক্রান্ত সন্দেহ ছিল, তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজনদের বাদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ফাঁকা জায়গা পূরণে যুক্ত করা হয়েছে নতুন মুখ। বিসিবির মতে, দেশীয় ক্রিকেটের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
এইবার যে ১৪ ক্রিকেটারকে নিলামে যুক্ত করা হয়েছে, তারা হলেন: আলিস আল ইসলাম, মো. রুবেল, আশরাফুল হাসান রোহান, আহমেদ শরিফ, ইফতেখার হোসেন ইফতি, তৌফিক খান তুষার, জাতীয় দলের পেসার রুবেল হোসেন, আশরাফুল ইসলাম সিয়াম, আলী মো. ওয়ালিদ, আল-আমিন জুনিয়র, নুহায়েল সানদিদ, হোসেন আলী, শামসুল ইসলাম অনিক ও জাহিদ জাভেদ।
এর আগে নিলামের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বাদ পড়া। বিশেষ করে এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ বেশ কিছু পরিচিত নাম না থাকায় দলগুলো হতবাক হয়ে যায়। সমর্থকরাও প্রশ্ন তোলে—এদের নাম বাদ পড়ার কারণ কী?
শনিবার (২৯ নভেম্বর) গণমাধ্যমের সামনে এসে এই প্রশ্নের জবাব দেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—বিসিবির নিয়ম অটুট, যেখানে সন্দেহ আছে সেখানে কোনো ছাড় নেই। প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং নিয়মের কাঠামো অনুসরণ করে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এদিকে দলগুলো এখন নতুন যুক্ত হওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে নানা হিসাব–নিকাশ শুরু করেছে। বিশেষ করে রুবেল হোসেনকে যুক্ত করা দলগুলোকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। অভিজ্ঞতা, গতি ও ম্যাচ–উইনার মানসিকতা তাকে দলে পেতে আগ্রহী করবে অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিকে।
বিপিএল নিলামের সময়ও পিছিয়েছে। শুরুতে নিলাম বিকেল ৩টায় শুরুর কথা থাকলেও আয়োজকরা তা পিছিয়ে বিকেল ৪টায় শুরু করার ঘোষণা দেন। ফলে দলের স্ট্র্যাটেজি, বাজেট এবং শেষ মুহূর্তের জটিলতা সামলাতে দলগুলো অতিরিক্ত সময় পেয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের বিপিএল নিলামকে ঘিরে এখন উত্তেজনা তুঙ্গে। কে কোন দলে যাবে, কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি বাজিমাত করবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে বিসিবির স্পষ্ট কঠোর অবস্থান একটাই বার্তা দিচ্ছে—বিপিএলে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার জায়গায় কোনো আপস নেই।
