ইংল্যান্ডের ব্যাটিং তারকা এবং সাবেক অধিনায়ক জো রুট আবারও আলোচনায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিসবেনে হতে যাওয়া ডে-নাইট টেস্টকে সামনে রেখে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—অ্যাশেজ সিরিজে আদৌ কি পিঙ্ক বলে টেস্ট ম্যাচের প্রয়োজন আছে? তার মন্তব্য ঘিরে ক্রিকেট মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক রুট ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডের সাতটি ডে-নাইট টেস্টেই খেলেছেন। কিন্তু সেখানকার রেকর্ড সুখকর নয়—তারা জিতেছে মাত্র দুইটি, হার পাঁচটিতে। তাই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পিঙ্ক বলের ম্যাচকে তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
রবিবার সংবাদ সম্মেলনে রুট স্পষ্ট জানান, “অ্যাশেজের মতো সিরিজে এগুলোর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।” তিন দিনের টিকিট ইতোমধ্যেই বিক্রি শেষ হলেও তিনি মনে করেন, জনপ্রিয়তার চেয়ে সিরিজের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন, অস্ট্রেলিয়া পিঙ্ক-বলের খেলায় দারুণ সফল, আর এখানকার দর্শকরাও এটি বেশ উপভোগ করেন।
অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত পিঙ্ক-বল টেস্টে রাজত্ব করছে—১৪টির মধ্যে জিতেছে ১৩টিতে। একমাত্র হারটা গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। অন্যদিকে ব্রিসবেনে ইংল্যান্ডের শেষ জয় ১৯৮৬ সালে। এমন কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও রুট নিজের প্রতি আস্থা হারাননি।
পার্থে মাত্র দুই দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়া প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড বিধ্বস্ত হয়েছিল। রুট নিজেও ভয়াবহ ফর্মহীন ছিলেন—দুই ইনিংসে ১৮ বল খেলে করেছেন ০ ও ৮, দুবারই আউট করেছেন মিচেল স্টার্ক। তবু এ অভিজ্ঞ ব্যাটার বলছেন, “ভালো সিদ্ধান্ত নিয়ে যদি দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারি, সফল হবই।”
অস্ট্রেলিয়ায় তার গড় মাত্র ৩৩.৩৩, যা ক্যারিয়ারের ৫০.৯৪ গড়ের তুলনায় অনেক কম। তবে রুট আত্মবিশ্বাসী, প্রস্তুতি ঠিক থাকলে রান আসবেই। এ জন্যই তিনি ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রীর একাদশের বিপক্ষে পিঙ্ক-বল প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড়। তার ভাষায়, “আমি জানি কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়।”
ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার ব্রিসবেনে অনুশীলন করছে আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট বৃহস্পতিবার শুরু হবে। রুটের মন্তব্য অবশ্য তার আগেই অ্যাশেজে নতুন উত্তাপ যুক্ত করেছে।
