বিপিএল নিলামের দিনটা যেন ছিল নাটকীয়তা, কৌশল আর চমকের মেলবন্ধন। শুরু থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল—কয়েকজন তারকার জন্য দলগুলো খরচে আক্রমণাত্মক হবে। কিন্তু বাস্তবে গল্পটা হলো উল্টো। ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার বাজেট থাকলেও কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি সীমা ছুঁল না। বরং দলে ভারসাম্য তৈরিই ছিল তাদের প্রথম লক্ষ্য।
সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন মোহাম্মদ নাঈম। প্রথম ডাকেই চট্টগ্রাম রয়্যালস তাঁকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় দলে নেয়—যা এ পর্যন্ত বিপিএল ইতিহাসের অন্যতম বড় চুক্তি। নাঈমের প্রতি এই আস্থা এবার দলে তাঁর ভূমিকেও বাড়িয়ে দিল বহুগুণে। এদিকে রংপুর রাইডার্সের কৌশল ছিল দলকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করা। তাই তারা ব্যয় করেছে সর্বোচ্চ—৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যেখানে তাওহিদ হৃদয় (৯২ লাখ) ও লিটন দাসের (৭০ লাখ) মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের দলে ভিড়িয়েছে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ১৩ জন নিয়ে সবচেয়ে বড় স্কোয়াড গড়েছে। ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৮১ লাখ। অন্যদিকে নোয়াখালী এক্সপ্রেস সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটল—২ কোটি ৬৩ লাখে ১২ জন; তাদের স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা ও যুবশক্তির মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে।
বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এবার দলগুলো খুবই সংযত। ভারতীয় পিযূষ চাওলা থাকা সত্ত্বেও কেউ তাঁকে নেয়নি। তবে শ্রীলঙ্কান তিন ক্রিকেটার দলে জায়গা পেয়েছেন—ডিকভেলা, ম্যাথুস ও শানাকা। ঢাকা ক্যাপিটালস বিদেশি ক্রিকেটার নিয়োগে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল।
এখন অপেক্ষা নিলামের দ্বিতীয় পর্বের। প্রায় আড়াইশ বিদেশি ক্রিকেটারের তালিকা সামনে রেখে দলগুলো এবার আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে। কারণ স্কোয়াড সম্পূর্ণ করতে অন্তত দুজন বিদেশি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তাই মূল উত্তেজনা এখনই শুরু।
