যেখানে আতলেতিকো মাদ্রিদ নামে, সেখানে লড়াইয়ের নিশ্চয়তা থাকে। বিশেষ করে গত তিন মাস তারা লা লিগায় অপরাজিত; টানা সাত ম্যাচে জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে আকাশচুম্বী করে রেখেছিল। কিন্তু ন্যু ক্যাম্পের মাটিতে এসে সেই আত্মবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে পড়ল বার্সার আক্রমণভেদী খেলার সামনে।
ম্যাচের প্রথম প্রান্তে আতলেতিকো দেখিয়ে দেয় তারা শুধুই ডিফেন্সিভ দল নয়; সুযোগ পেলেই গতি বাড়িয়ে বিপদ তৈরি করতে পারে। বায়েনার গোলে তারা এগিয়েও যায়। গোলটি আসে বার্সার ডিফেন্স লাইনে এক মুহূর্তের আলসেমি থেকে। অবলাকের দীর্ঘ থ্রো, মাঝমাঠে বল কাড়ার লড়াই এবং বায়েনার দ্রুত শট—এই তিন ধাপেই তারা এগিয়ে যায়।
বার্সা গোল খাওয়ার পর যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা ছিল কাঙ্ক্ষিত। পেদ্রি খেলাটির ছন্দ তৈরি করে সামনে এগোনোর বার্তা দেন। তার নিখুঁত থ্রু-পাস ধরে রাফিনহা অবলাককে পাশ কাটিয়ে চমৎকার গোল করেন। চোট কাটিয়ে ফিরে এমন দুর্দান্ত গোল যেন রাফিনহার আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রথমার্ধেই লেভানডফস্কির পেনাল্টি মিস বার্সার জন্য হতাশার মুহূর্ত ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পুরো দল আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। পেদ্রি, ডে ইয়ং ও ওলমো মিলে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেন, আর তরুণ ইয়ামাল বারবার আতলেতিকো ডিফেন্সকে ছন্দ নষ্ট করে দেন।
৬৫ মিনিটে ওলমো বল পেয়ে ডানদিকে জায়গা বের করে বাম পায়ে চমৎকার শটে বার্সাকে এগিয়ে দেন। গোলটি উদযাপনের সময় তিনি কাঁধে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়লেও তার গোলই ম্যাচে মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আতলেতিকো এরপর মরিয়া হয়ে ওঠে। সিমিওনে তিনজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় নামান। খালি পোস্ট সামনে পেয়েও থিয়াগো আলমাদা শট মেরে বাইরে পাঠান। এই একটি মুহূর্তই হয়তো নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।
যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে বার্সার দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক আতলেতিকোর রক্ষণ ভেদ করে দেয়। বালদে দারুণ পাস বাড়ান, আর ফেরান তরেস শান্ত অস্ত্রে বল জালে জড়িয়ে দেন। ন্যু ক্যাম্প উন্মাদনায় ফেটে পড়ে।
এই জয়ের ফলে বার্সেলোনা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে। হান্সি ফ্লিকের শাসনামলে দলটি যে নতুন ছন্দে উঠছে, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। সিমিওনের দল পিছিয়ে পড়ল শিরোপা দৌড়ে, আর বার্সা উড়ছে আত্মবিশ্বাসে।
