ওমানকে উড়িয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২১ হকির ইতিহাস: এক ম্যাচেই ১৩ গোলের বিস্ময়!

বাংলাদেশ জুনিয়র হকি বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন ইতিহাস গড়বে—অনেকে হয়তো ভাবতেও পারেননি। ভারতীয় উপমহাদেশের হকি ইতিহাসে প্রথমবার অংশ নেওয়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২১ দল আজ ওমানকে ১৩–০ গোলে হারিয়ে এক অভূতপূর্ব জয় তুলে নিয়েছে। লড়াইটা ছিল মূলত নতুন দুই দলের, কিন্তু একপক্ষের প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়া এবং অপরপক্ষের অসহায় আত্মসমর্পণের গল্প আজ হকিপ্রেমীদের মনে নাড়া দিয়েছে।

ম্যাচটি হয়েছিল ভারতের মাদুরাই ইন্টারন্যাশনাল হকি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশের শুরুটাই ছিল আক্রমণাত্মক। প্রথম কোয়ার্টারেই দলের গোলমুখে ঝড় তুলে ৩–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। পেনাল্টি কর্নার থেকেই তিনটি গোল করেন দলের নায়ক আমিরুল ইসলাম। সারা ম্যাচজুড়ে তাঁর স্টিক–বৈচিত্র্য ছিল চোখে পড়ার মতো। শক্তি, গতি ও নির্ভুল শটে ওমানের রক্ষণের দরজা বারবার ভেঙেছেন তিনি।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ওমানের প্রতিরোধের চেষ্টা দেখা গেলেও তা বেশি দূর যেতে পারেনি। রাকিবুল হাসান দুই গোল করে বাংলাদেশের ব্যবধান দ্বিগুণ করে দেন। এরপর তৃতীয় কোয়ার্টার ছিল যেন বাংলাদেশের গোল উৎসব। ৩৩ মিনিটে গোল করেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। মিনিটের মাথায় আবারও পেনাল্টি কর্নার! আমিরুল করলেন নিজের চতুর্থ গোল। তার কিছুক্ষণ পরই ওবায়দুল হাসান করেন দলের অষ্টম গোল।

শেষ কোয়ার্টারে গোলের ঝড়ে ওমান পুরোপুরি হার মানে। সাজু, আমিরুল, রাকিবুল ও আবদুল্লাহ আরও একবার করে গোল করে ম্যাচের স্কোরবোর্ডকে দাঁড় করান অবিশ্বাস্য ১৩–০ তে। বাংলাদেশের রক্ষণও আজ ছিল দারুণ দৃঢ়। চার কোয়ার্টারে তিনটি পেনাল্টি কর্নার পেয়েও ওমান গোলমুখ ছুঁতে পারেনি।

এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়, এবং শুধুই জয় নয়—একটি বিবেচনাহীন জয় নয়, ভবিষ্যতের সাহস ও আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ড্র এবং শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াকু হার—এসবই ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সামনে এগোচ্ছে।

এই জয়ে ১৭ থেকে ২৫তম স্থান নির্ধারণী পর্বে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। সামনে লক্ষ্য আরও বড়—দুই ম্যাচ জিতলেই ইতিহাসে প্রথমবার ১৭তম স্থানে বিশ্বকাপ শেষ করতে পারে বাংলাদেশ।

Leave a Comment