বুধবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে ২-০ গোলের জয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আর্সেনাল। তবে মাঠে প্রাপ্ত এই তিন পয়েন্টের উচ্ছ্বাস ঢেকে দিয়েছে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ডেকলান রাইস ও ক্রিস্থিয়ান মস্কেরার চোটের খবর। ম্যাচজয়ের আনন্দের পাশে চোটের ছায়া এতটাই স্পষ্ট যে ম্যাচ শেষে কোচ মিকেল আর্তেতার ভাষায় ফুটে ওঠে ক্ষোভ, হতাশা আর শঙ্কা।
ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মিকেল মেরিনো ও বুকায়ো সাকার গোলে জয় আসে যাচ্ছেতাই লড়াই শেষে। কিন্তু ৪৬ মিনিটেই হাঁটু বা গোড়ালির ব্যথায় মাঠ ছাড়েন মস্কেরা। এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র সাত মিনিট আগে পেশির সমস্যায় মাঠ ছাড়তে হয় রাইসকে। দুজনকেই দেখে চিকিৎসকরা দ্রুত মাঠের বাইরে নিয়ে যান। ম্যাচ শেষে আর্তেতা বলেন, “এটা খুবই খারাপ খবর। রাইসের সমস্যাটা গুরুতর কি না তা কাল জানা যাবে, কিন্তু সে খেলা চালিয়ে যেতে পারছে না। মস্কেরার অবস্থাও ভালো নয়।”
প্রশ্ন হলো, কেন হঠাৎ এত চোট? এর উত্তর আর্তেতা নিজের মতো করে দিয়েছেন। বর্তমানে ইউরোপের ফুটবল সূচিকে তিনি দায়ী করেন ‘অমানবিক’ বলেই উল্লেখ করেন। “এখন আমরা বুধবার রাতেও খেলি, আবার শনিবার সকালের ম্যাচও খেলতে হয়। এর মধ্যে সময় কোথায়? খেলোয়াড়দেরও তো বিশ্রাম দরকার।”
আর্তেতা বলেন, “এরা মেশিন নয়। প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে শারীরিকভাবে তারা চাপের মুখে থাকে। যদি অন্তত একদিন অতিরিক্ত বিশ্রাম দেওয়া যায়, তাহলে তা খেলোয়াড়দের জীবনই বদলে দেবে।”
আগামী সপ্তাহেই আর্সেনালকে অ্যাস্টন ভিলার মাঠে খেলতে হবে। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে উড়াল দিতে হবে বেলজিয়ামে। অর্থাৎ, বিশ্রাম বা পুনর্বাসনের জন্য সময় প্রায় শূন্য। এমন অবস্থায় রাইস-মস্কেরার মতো তারকাদের চোট পাওয়া আরও বড় ধাক্কা।
আর্তেতা সরাসরি বলেন, “এটা কোনো তর্কের বিষয় নয়। এটা সাধারণ জ্ঞানের ব্যাপার। খেলোয়াড়রা মানুষ, তারা রোবট নয়।” ইউরোপিয়ান সূচির বিরুদ্ধে এই কণ্ঠস্বর নতুন নয়, তবে শীর্ষ দলগুলোর চোটের তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় এখন তা আরও বেশি আলোচিত বিষয়।
চোট, ব্যস্ততা আর সময়ের সাথে যুদ্ধ—এটাই যেন বর্তমানে আর্সেনালের বাস্তবতা।
