চাপের পাহাড় ডিঙিয়ে প্রথম জয় ন্যান্সির

পার্কহেডে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির হাসি ফিরল সেলটিক শিবিরে। টানা চার ম্যাচের হতাশাজনক পরাজয়ের পর অ্যাবারডিনের বিপক্ষে ৩–১ গোলের জয় তুলে নিয়ে অবশেষে নিজের প্রথম জয় পেলেন সেলটিক কোচ উইলফ্রিড ন্যান্সি। এই জয় কেবল তিন পয়েন্টের নয়, বরং মানসিক চাপ, সমালোচনা আর অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে এক দৃঢ় প্রত্যাবর্তনের প্রতীক।

হার্টস, রোমা, সেন্ট মিরেন ও ডান্ডি ইউনাইটেডের বিপক্ষে টানা পরাজয়ের ফলে ন্যান্সির ওপর বাড়ছিল প্রশ্নের পাহাড়। নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এতগুলো হার তাঁকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়। তবে অ্যাবারডিনের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল সেলটিক।

ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে মিডফিল্ডার বেঞ্জামিন নাইগ্রেনের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এই গোলের পর আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে অ্যাবারডিন, বিশেষ করে বিরতির ঠিক আগে ২০ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ডিলান লব্বান সরাসরি লাল কার্ড দেখলে পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে ওঠে। দাইজেন মায়েদাকে ফাউল করার অপরাধে রেফারির এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথই বদলে দেয়।

যদিও অ্যাবারডিন গোলরক্ষক দিমিত্র মিতভ একাধিক অসাধারণ সেভ করে দলকে বড় ব্যবধানে হার থেকে বাঁচান। পোস্টে লেগে ফিরে আসে সেলটিকের একাধিক শট। দ্বিতীয়ার্ধে দশ জন নিয়েও অ্যাবারডিন লড়াই চালিয়ে যায় এবং বদলি খেলোয়াড় কেনান বিলালোভিচ ৭৪তম মিনিটে সমতায় ফেরান দলকে।

এই গোল মুহূর্তের জন্য সেলটিককে হতভম্ব করলেও ভেঙে পড়েনি তারা। বরং ন্যান্সির ভাষায়, “আক্রমণ, আক্রমণ, আক্রমণ”—এই মন্ত্রেই খেলতে থাকে দল। শেষ দিকে কিয়ারান টিয়ার্নি ও বদলি জেমস ফরেস্টের গোল নিশ্চিত করে দেয় কাঙ্ক্ষিত জয়।

ম্যাচ শেষে ন্যান্সি বলেন, “আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না, কিন্তু এখানে আসার পর ভাগ্য আমার পক্ষে ছিল না। আজ ছেলেরা দেখিয়েছে মানসিক দৃঢ়তা কী জিনিস।” তাঁর মতে, এতগুলো হার সত্ত্বেও দল যেভাবে ফিরে এসেছে, সেটিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে।

এই জয়ে সেলটিক এখন লিগ নেতা হার্টসের থেকে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে, তবে একটি ম্যাচ হাতে রয়েছে। মৌসুমের এই পর্যায়ে এই জয় ন্যান্সির জন্য নতুন করে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment