আর্জেন্টিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে সৌদি প্রো লিগে দ্বৈরথের সম্ভাবনা দেখতে আগ্রহী ফুটবলপ্রেমীদের স্বপ্নকে ভেস্তে দিয়েছেন। প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ছেড়ে যাওয়ার পর মেসি যখন ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন পথ খুঁজছিলেন, তখন মধ্যপ্রাচ্যের ক্লাবগুলো তাঁকে চমকপ্রদ অর্থ প্রস্তাব করে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল।
মেসিকে বছরের প্রায় ১৪০ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা) বেতন দেওয়া প্রস্তাব করেছিল সৌদি ক্লাব আল-ইত্তিহাদ। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আনমার আল হাইলি জানিয়েছেন, “টাকা কোনো সমস্যা ছিল না। যদি মেসি আসতে রাজি হতেন, আমি তাকে এমন চুক্তি দিতাম যেখানে তিনি যেকোনো পরিমাণ ও সময়কাল লিখতে পারতেন—even আজীবন।” তবে ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডটি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং মেজর লিগ সকারের ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন।
সৌদি ক্লাব প্রস্তাবের বিবরণ
| ক্লাব | প্রস্তাবিত বার্ষিক বেতন | নোট |
|---|---|---|
| আল-ইত্তিহাদ | ১৪০ মিলিয়ন ইউরো | প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা |
| আল-হিলাল | আনুমানিক ১৩০ মিলিয়ন ইউরো | মেসিকে ৮ বার প্রস্তাব করা হয়েছিল |
আল-ইত্তিহাদের বর্তমান প্রধান তারকা রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা। তবে হাইলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মেসি এখনও আমাদের পছন্দের শীর্ষে।”
ইন্টার মায়ামিতে মেসি বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকলেও এমএলএসে তাঁর আয় সৌদি প্রস্তাবের তুলনায় কম। তবুও মেসি তার ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে অর্থের চেয়ে পরিবার ও নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে মিলিয়ে নিয়মিত শিরোপার স্বাদ নিচ্ছেন তিনি এবং পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অধ্যায় উপভোগ করছেন।
ফুটবলবিশ্বে মেসির এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, কিংবদন্তি খেলোয়াড়রা কখনো শুধুমাত্র অর্থের কাছে বাধ্য হন না, বরং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য, পরিবার এবং খেলাধুলার আনন্দকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। মেসি নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ করেছেন যে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ও যথাযথভাবে পরিকল্পিত এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই তার মূল লক্ষ্য।
