ফুটবলার তৈরির বৈশ্বিক মানদণ্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা কেবল মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, বরং আগামীর তারকা তৈরিতেও একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। সিআইইএসের গবেষণা অনুযায়ী, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ (ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, বুন্দেসলিগা, সিরি আ এবং লিগ আঁ)-এ বর্তমানে খেলছেন এমন ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ থেকে। বর্তমানে বার্সেলোনার হাতে গড়া ৪০ জন ফুটবলার ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ ক্লাবে দাপটের সাথে খেলছেন।
রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির দাপুটে অবস্থান
খেলোয়াড় কেনার জন্য রিয়াল মাদ্রিদ বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও, তাদের নিজস্ব একাডেমি ‘লা ফাব্রিকা’ যে অত্যন্ত উর্বর, তা এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে। বার্সেলোনার ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের তৈরি করা ৩৫ জন ফুটবলার বর্তমানে ইউরোপের সেরা মঞ্চগুলোতে খেলছেন। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। তাদের একাডেমি থেকে উঠে আসা ৩১ জন তরুণ প্রতিভা বর্তমানে শীর্ষ লিগগুলোতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের জন্য খেলোয়াড় গড়ে তোলা সেরা পাঁচটি ক্লাবের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| অবস্থানের ক্রম | ক্লাবের নাম | দেশের নাম | তৈরি করা খেলোয়াড় সংখ্যা |
| ১ম | এফসি বার্সেলোনা | স্পেন | ৪০ |
| ২য় | রিয়াল মাদ্রিদ | স্পেন | ৩৫ |
| ৩য় | পিএসজি | ফ্রান্স | ৩১ |
| ৪র্থ | স্টাড রেনে | ফ্রান্স | ২৯ |
| ৫ম | অলিম্পিক লিওঁ | ফ্রান্স | ২৮ |
ফরাসি ক্লাব রেনের অভাবনীয় সাফল্য
এই তালিকার সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে ফরাসি ক্লাব রেনে। চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি বা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো বিশ্বখ্যাত ক্লাবগুলোকে পেছনে ফেলে খেলোয়াড় সরবরাহে তারা চতুর্থ স্থান দখল করেছে। রেনের একাডেমি থেকে উঠে আসা ২৯ জন ফুটবলার এখন ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলছেন। এছাড়া ফ্রান্সের আরেক ক্লাব লিওঁ ২৮ জন খেলোয়াড় নিয়ে তালিকায় পঞ্চমে রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে ফরাসি একাডেমিগুলো বর্তমানে ফুটবলার গড়ার ক্ষেত্রে কতটা আধুনিক ও কার্যকর।
মাঠের সময় ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
সিআইইএসের প্রতিবেদনে কেবল খেলোয়াড় সংখ্যাই নয়, বরং তারা মাঠে কতটুকু সময় কাটাচ্ছেন সেই গুরুত্বও বিবেচনা করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের মাঠে কাটানো সময়ের ভিত্তিতে রিয়াল মাদ্রিদ শীর্ষে অবস্থান করছে, যা নির্দেশ করে যে তাদের একাডেমি থেকে আসা খেলোয়াড়রা কেবল দলেই থাকছেন না, বরং মূল একাদশে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। গত পাঁচ থেকে দশ বছরের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি—এই তিন ক্লাব ইউরোপীয় ফুটবলের মূল চালিকাশক্তি বা ‘সাপ্লাই চেইন’ হিসেবে কাজ করছে।
ফুটবলার গড়ার এই ধারা কেবল ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ আমেরিকার ফ্ল্যামেঙ্গো, রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্সের মতো ক্লাবগুলোও বিশ্বমানের প্রতিভা তৈরির কারিগর হিসেবে এই গবেষণায় প্রশংসিত হয়েছে। ফুটবল বিশ্বের এই ভবিষ্যৎ কাণ্ডারীদের বড় একটি অংশই আসছে এই নির্দিষ্ট কিছু ক্লাবের গভীর একাডেমি ব্যবস্থা থেকে।
