স্পেনের কোপা দেল রে’র কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনা ২-১ গোলে আলবাসেতেকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল। দ্বিতীয় ডিভিশনের দল আলবাসেত আগে শেষ ষোলোতে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল, তবে কাতালান জায়ান্টের বিপক্ষে তারা স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে পারেনি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বার্সেলোনার জন্য প্রথম গোল করেন লামিনে ইয়ামাল। ৩৯তম মিনিটে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের পাস থেকে বক্সের মধ্যে বাঁ পায়ের শটে ইয়ামাল জালে বল পাঠান। এটি তার শেষ ছয় ম্যাচে পঞ্চম গোল হিসেবে নথিভুক্ত হলো। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরও বাড়ান রোনাল্ড আরাউহো। ৫৬ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন উরুগুয়ের এই ডিফেন্ডার। মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণে গত বছর কিছুদিন বিরতিতে থাকার পর এটি ছিল তার প্রথম গোল।
আলবাসেতে শেষ মুহূর্তে চাপ বাড়িয়ে কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করলেও গোললাইন থেকে জেরার্দ মার্তিনের ক্লিয়ারেন্স বার্সেলোনাকে রক্ষা করে। ৮৭ মিনিটে হাভি মোরেনোর গোলটি আলবাসেতেকে সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু তোরেসের একটি গোল অফসাইড হওয়ায় ব্যবধান বাড়ানো হয়নি।
ম্যাচ শেষে আরাউহো বলেন, “আমরা জানতাম ম্যাচটি সহজ হবে না। কোপার ম্যাচ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত খোলা থাকে। আলবাসেত শেষদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, যা স্বাভাবিক। দল পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলেছে। আমরা সেমিফাইনালে উঠেছি—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
বার্সেলোনা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই জয়ে শেষ ১৭ ম্যাচে ১৬তম জয় পায়। এই টানা জয়ের মধ্যে একমাত্র পরাজয় হয়েছিল লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে। কোচ হ্যান্সি ফ্লিক বিশ্রাম দিয়েছিলেন রাফিনিয়া, গাভি ও পেদ্রিককে।
অন্যদিকে, আলবাসেতে দ্বিতীয় ডিভিশনের ১২তম স্থানে থাকা সত্ত্বেও কোপার দেল রেতে চমক দেখাচ্ছে। রাউন্ড অব ৩২-এ তারা সেলতা ভিগোকে হারিয়েছিল এবং শেষ ষোলোতে রিয়াল মাদ্রিদকে পরাস্ত করেছিল। সর্বশেষ ১৯৯৪–৯৫ মৌসুমে তারা কোপার সেমিফাইনালে খেলে। গোলদাতা হাভি মোরেনো বলেন, “আমরা গর্বিত। কে ভেবেছিল আমরা সেল্তা, রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে বার্সেলোনার বিপক্ষে এমন লড়াই করতে পারব?”
নিচের টেবিলে কোয়ার্টার ফাইনালের মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| দল | গোলদাতা | গোল সময় | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| বার্সেলোনা | লামিনে ইয়ামাল | 39’ | 2 |
| রোনাল্ড আরাউহো | 56’ | ||
| আলবাসেতে | হাভি মোরেনো | 87’ | 1 |
আলবাসেতে ফুটবল এবং কোপার দেল রে-এর ইতিহাসে এই মৌসুমটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কারণ তারা শক্তিশালী দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে দেশীয় টুর্নামেন্টে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
