২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে ইতোমধ্যেই এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, যা সমর্থকদের জন্য একদিকে টিকিট যুদ্ধ, অন্যদিকে হোটেল আতঙ্ক হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ড্রয়ের পর থেকেই এই ‘ডমিনো এফেক্ট’ শুরু হয়েছে। টিকিট ও আবাসনের চাহিদা এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যে সাধারণ সমর্থকের জন্য খরচের হিসাব কল্পনাতীত হয়ে উঠেছে।
Table of Contents
টিকিটের উচ্ছ্বাস ও দামের রেকর্ড
ফিফার লটারিতে টিকিট পাওয়ার জন্য ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি আবেদন জমা পড়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজয়ীদের ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই সতর্ক করেছেন, অনেক সমর্থক টিকিট পুনর্বিক্রয় করে লাভবান হবেন। ফলে, মাঠের টিকিট সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
টিকিট ও পার্কিং খরচের তুলনা (USD)
| খরচের ধরন | ন্যূনতম | সর্বোচ্চ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| স্টেডিয়াম টিকিট | 150 | 1,200 | ক্যাটাগরির উপর নির্ভরশীল |
| ফিফার পার্কিং স্পট | 250 | 300 | কিছু টিকেটের চেয়েও বেশি |
| হোটেল (মেটলাইফ স্টেডিয়াম নিকট) | 153 | 4,510 | ভাড়া বেড়েছে ২,৮৪৮% |
হোটেল ও আবাসনের আকাশছোঁয়া ভাড়া
খেলা দেখতে যাওয়া মানে শুধু টিকিট নয়, সেখানে থাকা-খাওয়ারও খরচ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের কাছাকাছি হোটেলের ভাড়া বর্তমানে প্রতি রাত ৪,৫১০ ডলার, যেখানে সাধারণ সময়ে ভাড়া মাত্র ১৫৩ ডলার। শর্ট হিলসে সাত বেডরুমের একটি বাড়ি তিন রাতের জন্য ৩৫,০০০ ডলার ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার চাহিদা বেড়েছে ১২১ শতাংশ। এয়ারবিএনবির তথ্য অনুযায়ী, ড্র ঘোষণার পর আবাসনের অনুসন্ধান বেড়েছে ১৬০ শতাংশ।
ভাড়া বাতিল ও প্রতারণার ঝুঁকি
চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে অনেক বাড়ির মালিক বুকিং বাতিল করে ভাড়া বৃদ্ধি করছেন। উদাহরণস্বরূপ, ডালাসে ক্রোয়েশীয় বংশোদ্ভূত অ্যান্থনি জোরিচের ৩২৭ ডলারের বুকিং বাতিল হয়ে পরপর ৯১৭ ডলারে পুনরায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এয়ারবিএনবি মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবে সমর্থকদের ভোগান্তি কমছে না।
‘ওয়ার্ল্ড কাপ ইফেক্ট’
২০২৫ সালের জুনে এয়ারবিএনবি ফিফার অফিশিয়াল পার্টনার হয়। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে এয়ারবিএনবিতে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের লেনদেন হবে। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে ‘টেইলর সুইফট ইফেক্ট’ বা ‘বিয়ন্সে ইফেক্ট’-এর মতো ঘটনাগুলো অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এই বিশ্বকাপে পুরো দেশ এমন ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ইফেক্ট’-এর মুখোমুখি হবে, যা ১৯ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এইসব তথ্যই প্রমাণ করে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুধু খেলার মেলা নয়, সমর্থকদের জন্য খরচের দিক থেকেও ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর হিসেবে পরিচিত হতে যাচ্ছে।
