নেপালের পোখরার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে শনিবার বিকেল সোয়া ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। ট্রফি উত্তোলনের মুহূর্তের জন্য উভয় দলের অধিনায়ক—বাংলাদেশের অর্পিতা বিশ্বাস ও ভারতের হুলান নংমাইথেম—উচ্ছ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করবে কে উঠবে এবারের শিরোপা জয়ী।
বাংলাদেশ এই বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, অন্যদিকে ভারত দু’বার শিরোপা জয় করেছে। ২০২৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফাইনাল শেষে আলোচিত ‘টসকাণ্ডের’ কারণে উভয় দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ভারতকে পরাজিত করে শিরোপা জয় করেছিল। চলতি আসরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও অত্যন্ত শক্তিশালী; রাউন্ড রবিন লিগে ভারতের সঙ্গে ২-০ গোলে জয় অর্জন করেছে তারা।
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার ফাইনালের জন্য সতর্ক থাকলেও আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেছেন, “আমরা অতীত ম্যাচের ফলকে পেছনে ফেলতে হবে। আমাদের সেরা মানসিকতা এবং প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামতে হবে। ভারতের শক্তিশালী খেলোয়াড়দের মোকাবিলা করতে হলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।”
এই আসরে বাংলাদেশের আক্রমণ এবং রক্ষণ উভয়ই শক্তিশালী। ফরোয়ার্ড আলপি আক্তার সর্বোচ্চ সাত গোল করেছেন, আর গোলরক্ষক ইয়ারজান প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে আস্থা জুগিয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কোনো গোল করতে পারেনি।
নেপালে এই আসর আয়োজন নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন বাটলার। প্রথমবার নেপালে অনুষ্ঠিত হওয়া এই টুর্নামেন্টে মাঠের কন্ডিশন সীমিত অনুশীলনের সুযোগ দিয়েছে। তবে তিনি লক্ষ্য করেছেন ফিট খেলোয়াড়দের দল মাঠে নামানোই মূল। এই ফাইনাল শুধু সাফ শিরোপার জন্য নয়, মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য নারী এশিয়ান কাপের দল নির্বাচনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে দুই দলের ফাইনাল আগে পারফরম্যান্সের তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:
| দলে নাম | রাউন্ড রবিন লিগ ফল | গোল করেছে | গোল হজম | মোট ম্যাচ |
|---|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ | ৩ জয়, ০ পরাজয় | ১৮ | ০ | ৩ |
| ভারত | ২ জয়, ১ পরাজয় | ১৫ | ৪ | ৩ |
বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল কেবল শিরোপার লড়াই নয়, এটি দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কৌশল ও মানসিকতার পরীক্ষাও হবে। বাংলাদেশের জন্য পঞ্চম শিরোপার পথে ভারতের সঙ্গে পুনরায় মুখোমুখি হওয়া বড় কোনো বাধা নয়, তবে লড়াইয়ের গুরুত্ব এবং উত্তেজনা ফাইনালকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
