জাতীয় নারী ফুটবল দলের হেড কোচ পিটার বাটলারকে ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। পেশাদারিত্ব, স্বেচ্ছাচারিতা ও দল পরিচালনার ধরন নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। টানা দ্বিতীয়বারের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরও ১৮ জন নারী ফুটবলার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। পরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবুও, সাফজয়ী পাঁচ ফুটবলারের জাতীয় দলে ডাক পড়েনি।
এঁরা হলেন:
| নাম | জাতীয় দলের শেষ উপস্থিতি | বিশেষ সাফল্য |
|---|---|---|
| সাবিনা খাতুন | ২০২৫ | প্রথমবার ফুটসাল শিরোপা জয়ী |
| মাসুরা পারভীন | ২০২৫ | প্রথমবার ফুটসাল শিরোপা জয়ী |
| মাতসুশিমা সুমাইয়া | ২০২৫ | প্রথমবার ফুটসাল শিরোপা জয়ী |
| কৃষ্ণা রানী | ২০২৫ | প্রথমবার ফুটসাল শিরোপা জয়ী |
| সানজিদা আক্তার | ২০২৫ | প্রথমবার ফুটসাল শিরোপা জয়ী |
বাটলারের ক্ষোভের কারণে এই পাঁচ নারী খেলোয়াড়ের জাতীয় দলে ডাক মেলেনি, অথচ তারা দেশের ফুটসাল ইতিহাসে প্রথম শিরোপা জিতে দেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বর্তমানে বাটলার এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প পরিচালনা করছেন। একই সময়ে তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ দলের দায়িত্বও নেন। কিন্তু ফাইনালে বাংলাদেশের ৪-০ ব্যবধানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হননি। বরং রাতে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে হারের দায় খেলোয়াড়দের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। বার্তায় তিনি লিখেছেন, “মেয়েরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিল। আমি ম্যাচের আগে তাদের সতেজ রাখার চেষ্টা করেছি, তবুও তারা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।”
বাটলারের এমন আচরণ দেশের ফুটবল অঙ্গনে নতুন নয়। জয় হলে কৃতিত্ব নিজের, হার হলে দায় খেলোয়াড়দের — এ ধাঁচ তার স্বভাব হিসেবে অভ্যস্ত। বিশেষভাবে, লীগে যে দলকে হেসেখেলে হারানো হয়েছিল, তিন দিন পর কেন একই দল একহালি গোল হজম করল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশের গতবছরের মিয়ানমার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে মূলপর্বে স্থান করে নেয়। মূলপর্বে বাংলাদেশের গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ:
| গ্রুপ | দল | চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সংখ্যা |
|---|---|---|
| A | চীন | ৯ বার |
| A | উত্তর কোরিয়া | ৩ বার |
| A | উজবেকিস্তান | – |
| A | বাংলাদেশ | প্রথমবারের অংশগ্রহণ |
তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাটলার বয়সভিত্তিক দলে সাফল্য প্রাধান্য দিয়েছেন। প্রাথমিক স্কোয়াড গঠনে পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপেক্ষা করে কয়েক ঘন্টার ট্রায়ালের ভিত্তিতে সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঢাকায় ফিরে বাটলার জাতীয় দলের অনুশীলন ও এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি শুরু করবেন। যদিও মেয়েরা আফঈদা, মারিয়া ও তহুরাদের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি। তবুও, ছকহীন এবং দায়িত্বহীন এই কোচিং পদ্ধতি বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে কি না, তা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
